এসবিআইয়ের ৩.৭৫ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরি
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির দাবি করেছে ‘সিরিয়াসিম’ নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। তবে তথ্য চুরির এ দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকটির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সাইবারপালস৫৬’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, গ্রাহকদের তথ্য ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির দাবি করেছে ‘সিরিয়াসিম’ নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। তবে তথ্য চুরির এ দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকটির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সাইবারপালস৫৬’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, গ্রাহকদের তথ্য চুরির পর সেগুলো ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে হ্যাকার গোষ্ঠীটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি করা তথ্যের মধ্যে কমা দিয়ে আলাদা করা মানের তালিকা বা সিএসভি ফরম্যাটের নথি এবং ২ হাজার ৭২২টি পিডিএফ ফাইল রয়েছে। এসব নথিতে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য, ঋণের আবেদনপত্র ও অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তথ্যগুলোর সত্যতা ও ফাঁসের ব্যাপ্তি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এসবিআইয়ের গ্রাহকদের পরিচিতি যাচাইয়ের তথ্য বা কেওয়াইসি নথি ফাঁস হয়ে থাকলে তা ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতে পারে অপরাধীরা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, ঠিকানা ও ব্যাংক হিসাব খোলার নথি ব্যবহার করে জালিয়াতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ফাঁসের দাবি করা তথ্য নতুন, নাকি আগে ফাঁস হওয়া তথ্য আবার প্রকাশ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
তথ্যগুলো সত্যি হলে সেগুলো ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের আবেদন, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানোর আশঙ্কা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল বা ভুয়া ভিডিও তৈরি করেও প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। তবে এসব ঝুঁকির কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এমন জালিয়াতি ঘটেছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
ভারতের ব্যাংক খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাংক অব বরোদার বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর আগে গত বছর এসবিআইয়ের ইয়োনো অ্যাপে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরে হালনাগাদের মাধ্যমে সেই দুর্বলতা ঠিক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এবারের ঘটনায় এসবিআইয়ের গ্রাহকদের তথ্য সত্যিই চুরি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
