অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণায় বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। কোনো কোম্পানি বিপুল মুনাফা করে শেয়ারহোল্ডারদের বড় অঙ্কের লভ্যাংশ দিচ্ছে, আবার কোনো কোম্পানি সামান্য মুনাফা করেও নামমাত্র লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। এমনকি শেয়ারপ্রতি লোকসান থাকা সত্ত্বেও লভ্যাংশ দিচ্ছে কয়েকটি কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ৩১ টাকা ২৪ পয়সা। ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণায় বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। কোনো কোম্পানি বিপুল মুনাফা করে শেয়ারহোল্ডারদের বড় অঙ্কের লভ্যাংশ দিচ্ছে, আবার কোনো কোম্পানি সামান্য মুনাফা করেও নামমাত্র লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। এমনকি শেয়ারপ্রতি লোকসান থাকা সত্ত্বেও লভ্যাংশ দিচ্ছে কয়েকটি কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ৩১ টাকা ২৪ পয়সা। অন্যদিকে, মুন্নু ফেব্রিক্স শেয়ারপ্রতি মাত্র ২ পয়সা আয় করেও ০.১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এডভেন্ট ফার্মা শেয়ারপ্রতি ৪২ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিচ্ছে মাত্র ০.১৫ শতাংশ। সিলকো ফার্মার শেয়ারপ্রতি আয় ৩৩ পয়সা, লভ্যাংশের হার ০.৫০ শতাংশ।

লোকসানেও লভ্যাংশ দিচ্ছে দুই কোম্পানি

সবচেয়ে আলোচনার বিষয়, শেয়ারপ্রতি লোকসান থাকার পরও জেএমআই সিরিঞ্জ ও তিতাস গ্যাস নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। জেএমআই সিরিঞ্জের শেয়ারপ্রতি লোকসান ২ টাকা, তবু কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। আর তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৬ টাকা ২ পয়সা হলেও লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে ২ শতাংশ।

অন্যদিকে, লোকসানে থাকা মীর আখতার ও সেন্ট্রাল ফার্মা কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। মীর আখতারের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৬ টাকা ৫৮ পয়সা। সেন্ট্রাল ফার্মার লোকসান শেয়ারপ্রতি ১৭ পয়সা।

মুনাফা কম, লভ্যাংশও নামমাত্র

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা আয় করে ১.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয় ৭১ পয়সা, লভ্যাংশ ৩ শতাংশ। মোজাফ্‌ফর হোসাইন স্পিনিং মিলস শেয়ারপ্রতি ৭৪ পয়সা আয় করে ২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে।

আগের অর্থবছরের তুলনায় তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের মুনাফা ও লভ্যাংশ—দুটিই কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৭৫ পয়সা এবং নগদ লভ্যাংশ ছিল ৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় কমে হয়েছে ৩০ পয়সা, আর লভ্যাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫০ শতাংশে।

কোম্পানির নাম

লভ্যাংশের হার

ইপিএস

মীর আখতার

০০

(৬.৫৮)

সেন্ট্রাল ফার্মা

০০

(০.১৭)

কপারটেক

৩% নগদ

০.৭১

ক্রাউন সিমেন্ট

২২.৫০% নগদ

৫.০৮

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ

১.৫০% নগদ

০.৩০

হা-ওয়েল টেক্সটাইল

২০% নগদ

৩.৭১

*বেঙ্গল ইউন্ডসোর

৫% নগদ

০.৫৭

রহিম টেক্সটাইল

১০% নগদ

২.৯৭

কেডিএস এক্সেসরিজ

১০% নগদ

২.২০

রংপুর ফাউন্ড্রি

২৩% নগদ

৩.৯০

মোজাফ্ফর হোসাইন

২.৫০% নগদ

০.৭৪

এমএমসিএল প্রাণ

৩২% নগদ

৫.০৩

মালেক স্পিনিং

১০% নগদ

৬.৯৩

স্কয়ার ফার্মা

১৩০% নগদ

৩১.২৪

একমি ল্যাব

৪০% নগদ

১২.৬৫

কেঅ্যান্ডকিউ

৫% নগদ ও ৫% বোনাস

১১.২৫

রানার অটো

১০% নগদ

১.৭০

*মুন্নু ফেব্রিক্স

০.১০% নগদ

০.০২

*এডভেন্ট ফার্মা

০.১৫% নগদ

০.৪২

সোনালি পেপার

৪২% নগদ

৭.৩৪

শাহজিবাজার পাওয়ার

৪০% নগদ

৬.০৪

সিলকো ফার্মা

০.৫০% নগদ

০.৩৩

জেএমআই সিরিঞ্জ

১০% নগদ

(২.০০)

তিতাস গ্যাস

২% নগদ

(৬.০২)

বড় লভ্যাংশের তালিকায় আরও যারা

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পর ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে একমি ল্যাবরেটরিজ ও শাহজিবাজার পাওয়ার। একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় ১২ টাকা ৬৫ পয়সা এবং শাহজিবাজার পাওয়ারের ৬ টাকা ৪ পয়সা।

এ ছাড়া এমএমসিএল প্রাণ ৩২ শতাংশ, ক্রাউন সিমেন্ট ২২.৫০ শতাংশ এবং হা-ওয়েল টেক্সটাইল ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। রহিম টেক্সটাইল, কেডিএস এক্সেসরিজ, মালেক স্পিনিং ও রানার অটোমোবাইলসের লভ্যাংশ ১০ শতাংশ করে। বেঙ্গল উইন্ডসোর ৫ শতাংশ এবং সোনালি পেপারের লভ্যাংশ ৪২ শতাংশ নগদ।

কেঅ্যান্ডকিউ ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে।

কোম্পানিগুলোর ঘোষণায় স্পষ্ট, লভ্যাংশের হার ও শেয়ারপ্রতি আয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তবে শুধু লভ্যাংশের হার দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কোম্পানির আয়, আর্থিক অবস্থা, নগদ অর্থের প্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসার সক্ষমতা যাচাই করাও জরুরি।