ক্যাল ইনভেস্টমেন্টসের দুই বিও হিসাব তদন্তে বিএসইসি
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংক ক্যাল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের দুই গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঋণচুক্তিতে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার ফাঁকা রাখা, ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার বিনা মূল্যে স্থানান্তর, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং এক কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
এ ছাড়া দুই বিও হিসাবে ২১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংক ক্যাল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের দুই গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঋণচুক্তিতে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার ফাঁকা রাখা, ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার বিনা মূল্যে স্থানান্তর, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং এক কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
এ ছাড়া দুই বিও হিসাবে ২১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার স্থানান্তর, মার্জিন ঋণের সুদ ও ফি নির্ধারণ এবং জামানত হিসেবে ব্যবহৃত শেয়ারের বৈধতাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে তিন সদস্যের যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। কমিশনের আদেশে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ক্যাল ইনভেস্টমেন্টসের ভি০৩২২ ও ভি০৩১৩ নম্বর বিও হিসাবের লেনদেন তদন্ত করা হবে। এসব হিসাবে গ্রাহকের অনুমোদন নিয়ে লেনদেন হয়েছে কি না, ঋণের শর্ত যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান মেনে চলেছে কি না, তা যাচাই করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
ঋণচুক্তির শর্ত নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভি০৩২২ হিসাবের জন্য করা পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা চুক্তির সঙ্গে থাকা ঋণ স্বীকারপত্র, অঙ্গীকারপত্র এবং ফি, সুদ ও চার্জসংক্রান্ত তফসিলে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হারসহ আর্থিক শর্ত ফাঁকা রাখা হয়েছিল কি না। পরে এসব শর্ত পূরণ করা হয়ে থাকলে তা কে, কখন এবং গ্রাহকের সম্মতিতে করেছিলেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। ভি০৩১৩ হিসাবেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা যাচাই করবে কমিটি।
বিনা মূল্যে শেয়ার স্থানান্তরের অভিযোগ
ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার দুই গ্রাহকের হিসাবে শূন্য মূল্যে স্থানান্তরের উৎস ও ভিত্তি তদন্ত করা হবে। শেয়ারগুলো লক-ইনের আওতায় ছিল কি না, সেগুলো মার্জিন ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না এবং এ ক্ষেত্রে বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করবে কমিটি।
এ ছাড়া ভি০৩২২ নম্বর বিও হিসাব থেকে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এক কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা যাচাই করা হবে। দুই হিসাবে জমা হওয়া সুদের হিসাব এবং ভি০৩১৩ হিসাবের বিবরণীতে ২১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার স্থানান্তরের এন্ট্রিও পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ভাউচার, হিসাবের নথি ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
গ্রাহকের সম্মতি ও ঋণের সুদ যাচাই
মার্জিন ঋণের সুদ ও ফি নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগাম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, পাশাপাশি তাঁদের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে। অভিযোগে অননুমোদিত হিসেবে চিহ্নিত লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের লিখিত, ইলেকট্রনিক বা রেকর্ড করা নির্দেশনা ছিল কি না, তাও যাচাই করা হবে।
এ ছাড়া ভি০৩১৩ হিসাবের পোর্টফোলিওতে ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের অস্বাভাবিক আধিক্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শেয়ারধারণ ও পরিচালকের পদ সম্পর্কে ক্যাল ইনভেস্টমেন্টস এবং বিটাওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিখিতভাবে অবগত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
তদন্তে আইন বা বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ক্যাল ইনভেস্টমেন্টস এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।
