খেলাধুলা ডেস্ক :   ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচেও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অ্যাডাম মিলনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা। এর মধ্য দিয়ে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ জিতে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে তারা। যদিও প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ভারত।

হ্যামিল্টনে আজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টুয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ...

খেলাধুলা ডেস্ক : ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচেও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অ্যাডাম মিলনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা। এর মধ্য দিয়ে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ জিতে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে তারা। যদিও প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ভারত।

হ্যামিল্টনে আজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টুয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ১২ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

ভারতের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান নিউজিল্যান্ডের পেসার অ্যাডাম মিলনে। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। তাঁর বোলিং তোপে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত। নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার নেন দুটি করে উইকেট।

ভারতের শুরুটা ছিল বেশ হতাশাজনক। দলীয় ১৯ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে হারায় তারা। দুজনকেই ফিরিয়ে দেন মিলনে। এরপর ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।

কিষান ৩২ বলে ৬১ রান করেন। পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি থামে একাদশ ওভারে। শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে মাত্র ৪৩ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে টি-টুয়েন্টিতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েন কিষান। ছাড়িয়ে যান সূর্যকুমার যাদবকে।

অন্য প্রান্তে আরও আগ্রাসী ছিলেন শ্রেয়াস। মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তবে পরের বলেই আউট হন ভারত অধিনায়ক। তাঁর সংগ্রহ ৫০ রান। এরপর তিলক বর্মাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষ দিকে নমন ধিরের ৩৩ ও নিতিশ কুমার রেড্ডির ২২ রানে ১৯১ রানের সংগ্রহ পায় ভারত।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ফিন অ্যালেনকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে টিম সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেলের ব্যাটে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই ৫৯ রান তুলে নেয় স্বাগতিকেরা। মিচেল ২৯ রান করে ফিরলে তাঁদের ৭৩ রানের জুটি ভাঙে বরুণ চক্রবর্তীর বলে।

এরপর সাইফার্টের সঙ্গে যোগ দেন গ্লেন ফিলিপস। আগের তিন ম্যাচে দুই অঙ্কের রানও করতে না পারা সাইফার্ট এদিন ব্যাট হাতে জবাব দেন দুর্দান্তভাবে। মাত্র ৩৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৯৩ রান করে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।

তবে সাইফার্টের বিদায়ে জয়ের পথে বাধা তৈরি হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ফিলিপসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি। ৩৮ বলে ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। বেভন জ্যাকবসকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটি গড়েন ফিলিপস।

পুরো সিরিজেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন ফিলিপস। পাঁচ ম্যাচে তিনটি অর্ধশতক ও একটি শতকের সাহায্যে করেছেন ৩৪১ রান। তাতে সিরিজসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

দ্বিপক্ষীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট করেছিলেন ৩৩১ রান। ২০২২ সালে পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৩১৬ রান।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম তিনটিতে জিতে ভারত শিরোপা নিশ্চিত করলেও শেষ দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় তাদের সিরিজ শেষ করার আনন্দে কিছুটা হলেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আগামী বুধবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ১৯১/৮ (ইশান কিষান ৬১, শ্রেয়াস আইয়ার ৫০, নমন ধির ৩৩, নিতিশ রেড্ডি ২২; অ্যাডাম মিলনে ৪/১৯, নাথান স্মিথ ২/২৮)।

নিউজিল্যান্ড: ১৮ ওভারে ১৯৫/৩ (টিম সাইফার্ট ৯৩, গ্লেন ফিলিপস ৬৫*, ড্যারিল মিচেল ২৯; অর্শদীপ সিং ১/৪০, বরুণ চক্রবর্তী ১/৪৫, নিতিশ রেড্ডি ১/১৯)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ভারত ৩-২ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: অ্যাডাম মিলনে।

ম্যান অব দ্য সিরিজ: গ্লেন ফিলিপস।