উৎপাদনে লোকসান, বিনিয়োগ-ভাড়ার আয়ে টিকে জিকিউ বলপেন
উৎপাদন ব্যবসায় লোকসান, কাঁচামালের বাড়তি ব্যয় আর নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধাক্কা—এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেন। কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিচালন লোকসান হয়েছে। অথচ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের সুদ এবং ভবন ভাড়ার আয় না থাকলে প্রথম প্রান্তিকে মুনাফার মুখ দেখাও কঠিন হতো। অর্থাৎ মূল ব্যবসায় দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বদলে বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করেই সামান্য মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিকিউ বলপেনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ...
উৎপাদন ব্যবসায় লোকসান, কাঁচামালের বাড়তি ব্যয় আর নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধাক্কা—এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেন। কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিচালন লোকসান হয়েছে। অথচ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের সুদ এবং ভবন ভাড়ার আয় না থাকলে প্রথম প্রান্তিকে মুনাফার মুখ দেখাও কঠিন হতো। অর্থাৎ মূল ব্যবসায় দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বদলে বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করেই সামান্য মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিকিউ বলপেনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৬ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৫১ পয়সা লোকসান হয়েছিল। লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরলেও এই আয় মূলত উৎপাদন ব্যবসা থেকে আসেনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৬ পয়সা মুনাফার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে আয়, স্থায়ী আমানতের সুদ এবং উত্তরার জিকিউ শেফালী টাওয়ারের ভাড়া। অন্যদিকে কাঁচামাল ও উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে বড় পরিচালন লোকসান হয়েছে।
অর্থাৎ বলপেন উৎপাদন ও বিক্রির মূল ব্যবসায় চাপ থাকলেও বিনিয়োগ ও সম্পদ ভাড়া দিয়ে সেই ঘাটতি সামাল দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে কোম্পানিটির মূল ব্যবসার আয়ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শুধু উৎপাদন লোকসান নয়, নগদ অর্থপ্রবাহের চিত্রও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ৬ পয়সা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ইতিবাচক ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফা দেখালেও নিয়মিত ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ আসার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও কমেছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪২ টাকা ৭ পয়সা। গত ৩০ জুন তা ছিল ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। তিন মাসে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে ১ টাকা ৫৩ পয়সা।
সব মিলিয়ে জিকিউ বলপেনের প্রথম প্রান্তিকের মুনাফা দেখলেও স্বস্তির জায়গা খুব বেশি নেই। কারণ, উৎপাদন ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য লোকসান, কাঁচামালের বাড়তি ব্যয় এবং পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহের অবনতি কোম্পানিটির মূল ব্যবসার দুর্বলতাই সামনে এনেছে। বিনিয়োগ ও ভাড়ার আয় দিয়ে সাময়িকভাবে মুনাফা ধরে রাখা গেলেও উৎপাদন ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে সামনে চাপ আরও বাড়তে পারে।
