অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক  :    দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা বিনিয়োগকারীদের কিছু বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে এসব হিসাবে থাকা বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারবেন। বিশেষ করে জব্দ হিসাবের বিপরীতে আটকে থাকা মার্জিন ঋণ ও সুদ সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনাদায়ী পাওনা আদায়ের পথ খুলবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বাইরে থাকা বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের লেনদেনে ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা বিনিয়োগকারীদের কিছু বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে এসব হিসাবে থাকা বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারবেন। বিশেষ করে জব্দ হিসাবের বিপরীতে আটকে থাকা মার্জিন ঋণ ও সুদ সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনাদায়ী পাওনা আদায়ের পথ খুলবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বাইরে থাকা বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের লেনদেনে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শেয়ারবাজারে তারল্য ও লেনদেন বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিএসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন জব্দ থাকা কিছু বিও হিসাব পুনরায় চালুর সুযোগ দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি কমিশন বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব জব্দ করে। এর মধ্যে বড় বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু, ছায়েদুর রহমানসহ আরও অনেকের হিসাব ছিল। এসব হিসাব জব্দ থাকায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারছিলেন না। এতে বাজারের বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে।

বিও হিসাব জব্দের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন মার্জিন ঋণ প্রদানকারী ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। কারণ, এসব হিসাবের বিপরীতে দেওয়া ঋণ ও সুদ আদায় বা সমন্বয় করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না ঋণদাতারা। ফলে একদিকে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বন্ধ ছিল, অন্যদিকে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা আটকে ছিল দীর্ঘদিন।

এ পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিএসইসির কাছে জব্দ থাকা বিও হিসাব পুনরায় চালুর দাবি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, হিসাব জব্দ থাকায় মার্জিন ঋণের বিপরীতে পাওনা সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বিও হিসাবগুলো চালুর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ব্রোকারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি কিছু বিও হিসাব পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রাখা হয়েছে, হিসাবধারীরা এসব বিও থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না। শুধু শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারবেন। বিশেষ করে মার্জিন ঋণদাতাদের পাওনা সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা বিও হিসাব চালুর সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এতে আটকে থাকা মার্জিন ঋণ সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনেও সহায়ক হতে পারে।