অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) করেছে পূবালী ব্যাংক। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১০ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পূবালি ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ লিটন ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) করেছে পূবালী ব্যাংক। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১০ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পূবালি ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, পূবালি ব্যাংকের প্রতি আস্থার কারনে মানুষের ডিপোজিট বৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে। এরইমধ্যে গ্রাহকদের ডিপোজিট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় উঠে এসেছে। আমরা এই ডিপোজিটের সঠিক ব্যবহার করছি। এতে মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যে কারনে পূবালি ব্যাংক ইপিএসে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এসেছে।

ইপিএসের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ২৯ পয়সা। এ হিসাবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

এ ছাড়া ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ২ টাকা ৫২ পয়সার তুলনায় ১৪৪ শতাংশ বেশি। প্রাইম ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের ৫ টাকা ১৬ পয়সার তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। যমুনা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৪ টাকা ৪৪ পয়সার তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংকের নাম

ইপিএস-২৬

ইপিএস-২৫

উত্থান-পতনের হার

পূবালি ব্যাংক

১০.১৫

৫.৮৩

৭৪%

ব্র্যাক ব্যাংক

৭.৭০

৫.২৯

৪৬%

ডাচ-বাংলা ব্যাংক

৬.১৫

২.৫২

১৪৪%

প্রাইম ব্যাংক

৫.৬২

৫.১৬

৯%

যমুনা ব্যাংক

৫.৩৪

৪.৪৪

২০%

সিটি ব্যাংক

৪.৯৬

৪.১৩

২০%

ইস্টার্ন ব্যাংক

৪.১০

৩.৫৬

১৫%

শাহজালাল ব্যাংক

৪.০০

৩.৫০

১৪%

উত্তরা ব্যাংক

৩.৫৫

২.৭৬

২৯%

ব্যাংক এশিয়া

৩.২৪

২.৩৭

৩৭%

এনসিসি ব্যাংক

৩.০১

১.৯৭

৫৩%

ট্রাস্ট ব্যাংক

২.১৭

২.৫৫

(১৫%)

সাউথইস্ট ব্যাংক

১.৯১

১.৩৭

৩৯%

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

১.৭৬

১.৯২

(৮%)

ঢাকা ব্যাংক

১.১২

১.৩৩

(১৬%)

মিডল্যান্ড ব্যাংক

১.০৫

০.৫৮

৮১%

আল-আরাফাহ ব্যাংক

০.৮৯

০.৩৪

১৬২%দ

ওয়ান ব্যাংক

০.৮৮

১.০৭

(১৮%)

এনআরবিসি ব্যাংক

০.৫৮

০.১০

৪৮০%

মার্কেন্টাইল ব্যাংক

০.৪৩

১.৮৭

(৭৭%)

ইউসিবি

০.২৬

০.৩২

(১৯%)

এসবিএসি ব্যাংক

০.২০

০.১৫

৩৩%

এনআরবি ব্যাংক

০.১৫

(২.০১)

১০৭%

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

০.০৩

০.৩৪

(৯১%)

আইসিবিআই ব্যাংক

(১.০৭)

(০.৬৯)

(৫৫%)

প্রিমিয়ার ব্যাংক

(৪.৫২)

(৫.৪৯)

(১৮%)

ন্যাশনাল ব্যাংক

(৯.৩৭)

(৪.৫০)

(১০৮%)

রূপালি ব্যাংক

(১০.৫৮)

(১.৬৮)

(৫৩০%)

আইএফআইসি ব্যাংক

(১৩.০৪)

(৯.৪০)

(৩৯%)

ইসলামী ব্যাংক

(২০.৪১)

০.৬২

(৩৩৯২%)

এবি ব্যাংক

(৩১.৪৬)

(৩৪.৬১)

৯%

অন্যদিকে, ইপিএসের প্রবৃদ্ধির হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৫৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ পয়সা। এ হিসাবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৪৮০ শতাংশ। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ১৬২ শতাংশ। ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ পয়সা।

এ ছাড়া ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস ১৪৪ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংকের ১০৭ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৮১ শতাংশ এবং পূবালী ব্যাংকের ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার বেশি হলেও এসব ব্যাংকের ইপিএসের পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে, কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফায় অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৪১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৬২ পয়সা। ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৩৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান ৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৪ পয়সা হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের লোকসানও বেড়েছে। অন্যদিকে, এবি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের লোকসান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে এবি ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ৩১ টাকা ৪৬ পয়সা লোকসান সবার তলানিতে রয়েছে।