অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে আলোচিত প্লেসমেন্টহোল্ডার ছাগল কাণ্ডের মতিউর রহমান। যার নেতৃত্বাধীন চক্র বিভিন্ন দূর্বল ও অযোগ্য কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার দায়িত্ব হিসেবে টাকা ছাড়া কোটি কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে থাকে। যে কারনে এরইমধ্যে একমি পেস্টিসাইডস ও রিং শাইনের শেয়ার নেওয়ার অপরাধে শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই চক্রটি দূর্বল অ্যাগ্রো অর্গানিকাকে শেয়ারবাজারে এনেছে এবং টাকা ছাড়া ১০ লাখ ৭৫ হাজার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছে। যার দর ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে আলোচিত প্লেসমেন্টহোল্ডার ছাগল কাণ্ডের মতিউর রহমান। যার নেতৃত্বাধীন চক্র বিভিন্ন দূর্বল ও অযোগ্য কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার দায়িত্ব হিসেবে টাকা ছাড়া কোটি কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে থাকে। যে কারনে এরইমধ্যে একমি পেস্টিসাইডস ও রিং শাইনের শেয়ার নেওয়ার অপরাধে শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই চক্রটি দূর্বল অ্যাগ্রো অর্গানিকাকে শেয়ারবাজারে এনেছে এবং টাকা ছাড়া ১০ লাখ ৭৫ হাজার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছে। যার দর ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা একইভাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছে। সেই কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরে সব ধরনের আর্থিক হিসাব বন্ধ।

মতিউর রহমান আইপিও নিয়ে বিনা পয়সায় প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওয়ার একটি চক্র। এরা নিজেদের সংশ্লিষ্ট ইস্যু ম্যানেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন দূর্বল কোম্পানি কোম্পানির আর্থিক হিসাব ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে শেয়ারবাজারে আনে। এক্ষেত্রে তারা নামধারী নিরীক্ষকের সহযোগিতা নেয়। এক কথায় চক্রটি একটি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার পুরো দায়িত্ব নেয়। বিনিময়ে টাকা ছাড়া প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়। যেসব শেয়ার আইপিওতে আসার আগে ইস্যু করা হয়।

একইভাবে মতিউর চক্রের হাত ধরে শেয়ারবাজারে আসে অ্যাগ্রো অর্গানিকা। আর্থিক হিসাবে মুনাফা ও সম্পদ অতিরঞ্জিত করে শেয়ারবাজারে আনা হয় এ কোম্পানিটিকে। এর বিনিময়ে কোম্পানিটি থেকে মতিউর চক্র ১ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার নিয়েছে। এসব শেয়ারও একমি পেস্টিসাইডসের মতো টাকা ছাড়াই নিয়েছে বলে সন্দেহ সংশ্লিষ্টদের। যা তদন্ত করলেই একমি পেস্টিসাইডসের মতো আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক পরিচালক অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, মতিউর চক্রটি যে পুরো আইপিও প্রক্রিয়া করে, এ খবর অনেকেই জানে। তারা বিভিন্ন অযোগ্য কোম্পানির আর্থিক হিসাবকে কৃত্রিমভাবে সাজিয়ে শেয়ারবাজারে আনে। এর বিনিময়ে কোম্পানি থেকে শেয়ার নেয়। শুধু যে তারাই নেয়, এমনও না। কোম্পানির উদ্যোক্তা/পরিচালকেরাও নেয়। যার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে বিগত শিবলী কমিশন। তবে এখন সময় এসেছে সেসব অনিয়মের বিচার করা। এজন্য মতিউর চক্রের শেয়ার নেওয়া সব কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করা অতি জরুরী।

অ্যাগ্রো অর্গানিকাকে শেয়ারবাজারে আনা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওয়ার জন্য কিউআইওতে আবেদন দাখিলের আগে অস্বাভাবিকভাবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হয়। অ্যাগ্রো অর্গানিকার খসড়া প্রসপেক্টাসের ২১ পৃষ্টা অনুযায়ি, কোম্পানিটির ২০১৯ সালের ৩০ জুন পরিশোধিত মূলধন ছিল ২৭ লাখ টাকার কম। যে কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে আসাকে কেন্দ্র করে পরের অর্থবছরে বেড়ে হয়ে যায় ৩৮ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের প্রায় পুরোটাই বা ৯৯.৩০ শতাংশ ইস্যু করা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে। ওইসময় পরিচালকেরা নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে অনেক প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করে। এরপরে কিউআইওতে ৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

ওই অস্বাভাবিক মূলধন বৃদ্ধির মধ্যে অ্যাগ্রো অর্গানিকা থেকে মতিউর চক্রের প্লেসমেন্টহোল্ডারদের মধ্যে মো. মতিউর রহমান নিজে ১.৫০ লাখ, আফজালুর রহমান ০.৬৫ লাখ, হাওয়া নুর বেগম ৫ লাখ ও বেঙ্গল অ্যাসেটস হোল্ডিংস লিমিটেড ৩.৬০ লাখ শেয়ারের বিপরীতে কোন অর্থ পরিশোধ করেনি। এক্ষেত্রে মোট ১০ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার নেয়।

এরা একমি পেস্টিসাইডস থেকে প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়। যার বিপরীতে কোন টাকা দেয়নি বলে বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এছাড়া শেয়ারবাজারে আসার আগে একমি পেস্টিসাইডের ইস্যু ম্যানেজার শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড প্রসপেক্টাসে মিথ্যা বা অসংগত তথ্য দাখিলের মাধ্যমে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মার্চেন্ট ব্যাংকটিই অ্যাগ্রো অর্গানিকার ইস্যু ব্যবস্থাপনার কাজ করে।

এদিকে মতিউর চক্র ছাড়াও বিভিন্ন ভূয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করে। যেগুলোর বিপরীতেও টাকা ছাড়াই ইস্যু করা হয়েছে।

অ্যাগ্রো অর্গানিকার প্রসপেক্টাসে ৪২ পৃষ্টায় প্রদত্ত শেয়ারহোল্ডারদের তালিকায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রান্যাচার লিমিটেড, ইনভোটেক লিমিটেড, সিনার্জি ট্রেডিং লিমিটেড ও আর.কে এন্টারপ্রাইজের নাম রয়েছে। যেখানে কোম্পানিগুলোর ঠিকানা ও শেয়ারধারনের পরিমাণও রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৩৩ লাখ ৭২ হাজার ২৫০টি শেয়ার রয়েছে। যেগুলোতে প্রতিটি শেয়ারে ১০ টাকা করে হিসেবে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগ দাঁড়ায়।

ওই কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগের সত্যতা জানতে অ্যাগ্রো অর্গানিকার প্রসপেক্টাসে প্রদত্ত ঠিকানায় যায় অর্থ বাণিজ্যর প্রতিনিধিরা। কিন্তু একটি ঠিকানাতেও ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০২৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকেই অ্যাগ্রো অর্গানিকার আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। এরইমধ্যে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ গেছে এবং লভ্যাংশ সভার সময় শেষ। কিন্তু তালিকাভুক্তির পর থেকে সব কিছুই প্রকাশ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কোম্পানির পরিচালক শাহীন, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শরীফ ও কোম্পানি সচিব শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা সাড়া দেননি।