ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

খেলাপি আদায়ে কৃষি ব্যাংকের অগ্রগতি, মুনাফার আশা আগামী বছর

২০২৬ অক্টোবর ২২ ০৮:৪৮:০৪
খেলাপি আদায়ে কৃষি ব্যাংকের অগ্রগতি, মুনাফার আশা আগামী বছর

দেশের ব্যাংক খাতে যখন খেলাপি ঋণ আদায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ থেকেও আদায় হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে মুনাফায় ফেরার আশা করছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ১৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমেছে ২ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে কৃষি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে আদায় ২৩ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যের প্রায় ২৩ শতাংশ।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। তখন ২১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যের বিপরীতে অর্জন হয়েছিল প্রায় ২১ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ঋণ আদায়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অগ্রগতি হয়েছে।

ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ৯৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে অন্তত ৫২০ কোটি টাকা।

সম্ভাব্য খেলাপি ঋণেও বড় আদায়

কৃষি ব্যাংকের ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ থেকে অর্থ ফেরত আসাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সম্ভাব্য খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নতুন করে খেলাপি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০ কোটি টাকা। ব্যাংকটির হিসাব অনুযায়ী, এ শ্রেণির ঋণ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ থেকে আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। পাশাপাশি সরকারের ঋণ মওকুফের কারণে স্থগিত সুদ থেকে ৬৮৫ কোটি টাকা আয় হিসেবে যুক্ত হয়েছে বলে ব্যাংকের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ছয়টি সরকারি ব্যাংক মন্দ ঋণ থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করেছিল। একই বছরে শুধু কৃষি ব্যাংক আদায় করেছে ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

প্রবাসী আয় সংগ্রহেও এগিয়ে

ঋণ আদায়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয় সংগ্রহেও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরই প্রবাসী আয় আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। সরকারি ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে কৃষি ব্যাংক।

ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক-১ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, কৃষি ব্যাংক শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রয়েছে। অধিকাংশ গ্রাহক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ায় ঋণ আদায়ে তাঁদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, শাখা থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত ঋণ বিতরণ ও আদায়ে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দৈনিক ভিত্তিতে আদায় ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে গত দুই বছরে ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর ব্যাংকটি মুনাফায় ফিরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পাঠকের মতামত:

ব্যাংক এর সর্বশেষ খবর

ব্যাংক - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন