ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মার্কিন বিনিয়োগকারীদের ঢাকা সফর

২০২৬ আগস্ট ১০ ০৮:৪৭:২৫
মার্কিন বিনিয়োগকারীদের ঢাকা সফর

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আজ ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন প্রতিনিধি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফর শুধু ব্যবসায়িক সৌজন্য নয়; বরং বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সঞ্চিত প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) যুক্তরাষ্ট্রের। বর্তমানে দেশটির বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। প্রতি বছর নতুন করে ১৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার নিট মূলধনও বাংলাদেশে আসে।

তবে এই বিনিয়োগের বড় অংশই নতুন মূলধন নয়। বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মেটলাইফ, সিটিব্যাংক এবং শেভরন-এর মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখানকার ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশে ফিরিয়ে না নিয়ে বাংলাদেশেই পুনর্বিনিয়োগ করছে।

নতুন খাতে বাড়ছে আগ্রহ

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ছিল। দেশের গ্যাস উত্তোলন ও বিদ্যুৎ খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিনিয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

ব্যাংকিং ও বীমা সেবার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা প্রসেসিং, ডিজিটাল লজিস্টিকস, সফটওয়্যার এবং ফিনটেক খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

অফশোর গ্যাস ও ফিনটেকে নজর

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (আমচ্যাম) সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অন্যতম আগ্রহের ক্ষেত্র। সরকার সম্প্রতি ২৬টি অফশোর ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। সেখানে ব্রেন্ট-সংযুক্ত গ্যাস মূল্য, শতভাগ মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ এবং কর-সুবিধাসহ বেশ কয়েকটি প্রণোদনা রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা, ভিসা প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, পেপাল সেবা সম্প্রসারণ এবং 'বাংলা কিউআর' চালুর উদ্যোগ ফিনটেক ও পেমেন্ট প্রযুক্তি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যেসব বাধা দূর করতে চান বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগ বাড়াতে কয়েকটি দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে রয়েছে—

জ্বালানি খাতের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ

লভ্যাংশ ও মুনাফা সহজে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ

বন্দরে কাস্টমস জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো

মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর প্রয়োগ

আন্তর্জাতিক মানের শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত করা

'স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে'

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, "বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত হারে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি। বর্তমানে এফডিআই জিডিপির ১ শতাংশেরও নিচে। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ যেকোনো দেশের বিনিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তবে বিনিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপস করা যাবে না।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের এবারের সফর সফল হলে জ্বালানি, প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতিসহ একাধিক খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন