ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

৪ দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আজ প্রশাসক নিয়োগ, ভেঙে দেওয়া হবে পর্ষদ

২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৮:৪৭:৪৪
৪ দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আজ প্রশাসক নিয়োগ, ভেঙে দেওয়া হবে পর্ষদ

দুর্বল চারটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের (রেজল্যুশন) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিও বাতিল করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকার ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রথম ধাপে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রতিষ্ঠানটিতেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের তালিকায় রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হবে। পিপলস লিজিংয়ের আইনি জটিলতাও দ্রুত নিষ্পত্তির আশা করছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন এবং বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে অবসায়নের আওতায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায় ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অবশিষ্ট অর্থ আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন