ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্যাসসংকটে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ, ঝুঁকিতে নতুন রপ্তানি আদেশ

২০২৬ আগস্ট ০৯ ০৮:৫৭:১০
গ্যাসসংকটে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ, ঝুঁকিতে নতুন রপ্তানি আদেশ

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের গ্যাসসংকটের প্রভাব এবার আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। উৎপাদন পরিস্থিতি জানতে বিদেশি ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগ করছেন দেশের পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গে। উদ্যোক্তারা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে ক্রেতাদের আস্থা কমতে পারে। এতে নতুন মৌসুমের কিছু ক্রয়াদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানা আবার চালু হয়েছে। তবে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হওয়ায় অধিকাংশ কারখানাই এখনো মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। ফলে উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি সময়মতো রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানান, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই স্প্রিং ও সামার মৌসুমের নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া শুরু করেন বিদেশি ক্রেতারা। এই সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাংলাদেশের পরিবর্তে ভিয়েতনাম, ভারত কিংবা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের কারখানায় অর্ডার সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে অন্তত ১১টি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাদের আশ্বস্ত করতে হয়েছে যে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনো উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

তিনি জানান, গ্যাসসংকটের কারণে গাজীপুরের প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা তিন থেকে চার দিন বন্ধ ছিল। শনিবার থেকে বেশিরভাগ কারখানা চালু হলেও উৎপাদন বাড়েনি। অধিকাংশ কারখানাই তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে।

গাজীপুরের মিতালি ফ্যাশনের মালিক তুহিন আব্দুল্লাহ বলেন, তিন দিন বন্ধ রাখার পর কারখানা চালু করা হলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিদিন ১০ টনের বেশি কাপড় উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ টন। ৩০টি উৎপাদন লাইনের মধ্যে সাত-আটটির বেশি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিদেশি ক্রেতারাও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেক ক্রেতা বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আগের তুলনায় কম দামে অর্ডারের প্রস্তাব দিচ্ছেন। এতে উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ইউরোপ নয়, নতুন বাজারগুলোতেও ক্রয়াদেশের গতি কমেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরের আগে পোশাক খাত পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বয়লার চালু হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে। তবে দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট। ফলে অধিকাংশ এলাকায় এখনো গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়নি।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে একটি এলএনজি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যা ১১-১২ আগস্ট দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন