ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজাটে শেয়ারবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব

২০২৬ জুন ১৩ ১৯:২৬:০৮
বাজাটে শেয়ারবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি মনে করে, এবারের বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠনে গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো সময়োপযোগী ও ইতিবাচক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) মহান জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। বাজেট উপস্থাপনের পর শনিবার (১৩ জুন) ডিবিএ থেকে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পুঁজিবাজার সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারকেও ডিবিএর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা ডিবিএ গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, বাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড বাজারের সম্প্রসারণ, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুক উন্নয়নে অগ্রাধিকার, যোগ্য কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করতে লিস্টিং প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং তথ্য প্রকাশ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনাকে ডিবিএ ইতিবাচকভাবে দেখছে।

ডিবিএ সভাপতি বলেন, করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর কাঠামো তৈরির উদ্যোগ, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে ইক্যুইটি-ভিত্তিক অর্থায়নের প্রসার এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতনির্ভর বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা দেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের চাপে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।

ডিবিএ বিশ্বাস করে, সরকার ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি আধুনিক, গভীরতা সম্পন্ন ও আস্থাভিত্তিক বাজারে রূপ নেবে এবং জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এ সময় তিনি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন—সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজারে উন্নীত করার আহ্বান জানান।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন