ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

চার হাজার কোটি টাকার বেশি লুট

শেয়ারপ্রতি ১৮.২৩ টাকার লোকসানকে দেখানো হয়েছে ১.১০ টাকা মুনাফা

২০২৬ জুলাই ২০ ০৮:৫৮:৩৫
শেয়ারপ্রতি ১৮.২৩ টাকার লোকসানকে দেখানো হয়েছে ১.১০ টাকা মুনাফা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে বড় ধরনের অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকটির স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি (প্রভিশন) গঠন করা হলে ২০২৫ সালে ব্যাংকটির ২ হাজার ১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১৮.২৩ টাকা লোকসান হতো। অথচ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে ১২১ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১.১০ টাকা মুনাফা দেখানো হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট ঋণ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৫৯৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৪২ কোটি ৭ লাখ টাকা বা ১৫.১৯ শতাংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এই খেলাপি ঋণের বিপরীতে হিসাব মান অনুযায়ী ৩ হাজার ৩৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা সঞ্চিতি গঠন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ব্যাংকটি গঠন করেছে মাত্র ১ হাজার ২৫০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফলে সঞ্চিতি ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

নিরীক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদনের কারণে এই সঞ্চিতি তাৎক্ষণিকভাবে গঠন না করেও ব্যাংকটি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS) অনুযায়ী এ ধরনের ছাড় বাস্তব আর্থিক অবস্থাকে প্রতিফলিত করে না। ভবিষ্যতে এই সঞ্চিতি গঠন করতেই হবে, ফলে বর্তমানের মুনাফা ভবিষ্যতের লোকসানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি গঠন করা হলে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ১২১ কোটি ৭২ লাখ টাকা থেকে কমে ২ হাজার ১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা লোকসানে পরিণত হতো। একইভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১.১০ টাকা থেকে নেমে শেয়ারপ্রতি ১৮.২৩ টাকা লোকসানে দাঁড়াত।

এছাড়া প্রকাশিত হিসাবে ব্যাংকটির নিট সম্পদ (NAV) দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৬৯৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ২৪.৩৫ টাকা। কিন্তু প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি সমন্বয় করা হলে নিট সম্পদ কমে ৫৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকায় নেমে আসত এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ ২৪.৩৫ টাকা থেকে কমে মাত্র ৫.০১ টাকায় দাঁড়াত।

মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিআরএআর) প্রকাশিত হিসাবে ১২.৫২ শতাংশ দেখানো হলেও নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, সঞ্চিতি ঘাটতির পূর্ণ প্রভাব বিবেচনায় নিলে এই অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত এবং ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন সক্ষমতার চিত্র ভিন্ন হতো।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১০৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৬.৩৮ শতাংশ শেয়ার। ফলে ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনে এই ধরনের বড় ধরনের ব্যবধান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন