ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ঋণের চেয়ে বিনিয়োগে ঝুঁকছে এনসিসি ব্যাংক, মুনাফায় ভিন্ন চিত্র

২০২৬ আগস্ট ২৩ ০৮:৫৯:১৪
ঋণের চেয়ে বিনিয়োগে ঝুঁকছে এনসিসি ব্যাংক, মুনাফায় ভিন্ন চিত্র

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : মূল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে ধীরে ধীরে সরে বিনিয়োগনির্ভর আয়ের দিকে ঝুঁকছে বেসরকারি এনসিসি ব্যাংক পিএলসি। ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণ ও আমানতনির্ভর মূল ব্যবসা থেকে আয় কমলেও সরকারি সিকিউরিটিজসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মুনাফা ধরে রেখেছে ব্যাংকটি।

২০২৪ সালে এনসিসি ব্যাংকের নিট সুদ আয় ছিল ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬২ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট সুদ আয় কমেছে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা প্রায় ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে মূল ব্যবসা থেকে আয় কমার বিপরীতে বিনিয়োগে বড় ধরনের সম্প্রসারণ করেছে ব্যাংকটি। ২০২৪ সালে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। এক বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে ২ হাজার ২৫০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা প্রায় ৩০ শতাংশ।

বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাত থেকে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে বিনিয়োগ থেকে আয় হয়েছিল ৭৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ২৫৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ৩৫ শতাংশ।

ব্যাংকটি সরকারি ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড, প্রাইজ বন্ডসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ থেকে ২৮৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং অন্যান্য পরিচালন খাত থেকে ১৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা আয় করেছে।

এসব আয়ের ওপর ভর করেই ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে। ২০২৪ সালে এনসিসি ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ৪৩৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৬ কোটি ১২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে ৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১ শতাংশ।

তবে ব্যাংকের ব্যয়ের চিত্রে ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যায়। ২০২৫ সালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদই ব্যয় হয়েছে ৪০২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির মোট পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি ব্যয় হয়েছে আরও ৭১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

ফলে শুধু নিট সুদ আয়ের সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ের তুলনা করলে ব্যাংকটির মূল ব্যাংকিং ব্যবসার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিনিয়োগ আয় ও অন্যান্য পরিচালন আয় না থাকলে মুনাফার চিত্রও ভিন্ন হতে পারত।

এদিকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিতে এনসিসি ব্যাংকের রাখা অর্থের পরিমাণ ছিল ৪৭৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এর একটি অংশ গেছে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানেও। এর মধ্যে ২০২৫ সালে এক্সিম ব্যাংকে ১১৫ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছে এনসিসি ব্যাংক।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এনসিসি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ১ হাজার ১১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং নিট সম্পদ ৩ হাজার ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ২৬৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বিপরীতে গ্রাহকদের আমানত ছিল ২৯ হাজার ৭৩৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফিক্সড ডিপোজিটের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

পাঁচ বছর আগের সঙ্গে তুলনা করলেও ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কাঠামোতে বিনিয়োগের দিকে ঝোঁকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ২০২০ সালে এনসিসি ব্যাংকের ঋণ ছিল ১৭ হাজার ২৮৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, আমানত ১৯ হাজার ৭০২ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ৪ হাজার ৩৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ১০ হাজার ৩৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বা ৫১ শতাংশ। ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা বা ৫২ শতাংশ। তবে এ সময়ে বিনিয়োগ বেড়েছে ৫ হাজার ৪৯১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা ১২৬ শতাংশ।

অর্থাৎ পাঁচ বছরে ঋণ ও আমানত প্রায় অর্ধেক বাড়লেও বিনিয়োগ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এনসিসি ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও সেই মুনাফার বড় অংশ মূল ঋণ ব্যবসা থেকে আসছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন