ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বীমা খাত হতে পারে শেয়ারবাজারের বড় বিনিয়োগকারী

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৭:১৮:২০
বীমা খাত হতে পারে শেয়ারবাজারের বড় বিনিয়োগকারী

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বীমা খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেছেন, বীমা খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে দেশের বন্ড, শেয়ারবাজার ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস তৈরি হতে পারে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা’।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগকারীকে শিক্ষা দেওয়া। কারণ জ্ঞান ও তথ্য একজন বিনিয়োগকারীর মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করে এবং সচেতন বিনিয়োগকারী ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেট ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। তবে শুধু বাজারের আকার বাড়ালেই হবে না, এর গভীরতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। বিশ্বের পরিণত অর্থনীতিগুলোতে এই ভূমিকা মূলত বীমা কোম্পানিগুলো পালন করে।

জীবন বীমার উদাহরণ দিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, একজন গ্রাহক যখন জীবন বীমা পলিসি করেন, তখন তাঁর দেওয়া প্রিমিয়ামের বিপরীতে কোম্পানির দায় পরিশোধের সময়সীমা ১০, ১৫ বা ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সম্পদে বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। সরকারি বন্ড, করপোরেট ঋণ, অবকাঠামো এবং শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান দিতে পারে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বীমা খাতের মোট সম্পদ দেশটির জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশের সমান। ভারতে বীমা খাতের অবদান ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও শুধু এলআইসির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। এসব দেশে বীমা কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারের গভীরতা ও স্থিতিশীলতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের বীমা খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপির তুলনায় বীমা খাতের অবদান মাত্র ০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই হার ৩ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে বিনিয়োগের তহবিল বা পুল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই অর্থ বন্ড ও শেয়ারবাজারের পাশাপাশি অবকাঠামো খাতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘বীমা খাত বাংলাদেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নের জন্য কোনো প্রান্তিক বিষয় নয়; বরং এটি সেই অনুপস্থিত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শ্রেণী, যা আমাদের শেয়ারবাজারকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে পারে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার গুরুত্বও তুলে ধরেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সাইক্লোন, বন্যা ও কৃষি খাতের বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর জিডিপির প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। এসব ঝুঁকি বীমা ও পুনঃবীমার আওতায় আনা না গেলে তা সরকারের বাজেট, জরুরি তহবিল এবং সার্বভৌম ঋণের ওপর চাপ তৈরি করে।

এ কারণে জলবায়ু ও দুর্যোগ বীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় এসব বীমা পণ্য তৈরি ও পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারের বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, কার্যকর জলবায়ু ও দুর্যোগ বীমা বাজার শুধু ভোক্তা সুরক্ষার বিষয় নয়; এটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

দেশের বীমা খাতের অতীত দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেন তিনি। মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, অতীতে বীমা খাতে অব্যবস্থাপনা, বড় অঙ্কের বীমা দাবি পরিশোধে বিচ্যুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে মানুষের আস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার ও আইডিআরএ কাজ করছে বলে জানান তিনি। পলিসি হোল্ডারদের আস্থা ফেরাতে ঝুঁকিভিত্তিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বীমা খাতকে করপোরেট বন্ড, অবকাঠামো ঋণ ও শেয়ারবাজারের অন্যান্য বিনিয়োগ উপকরণের সঙ্গে যুক্ত করতে বীমা বিনিয়োগের প্রবিধান আধুনিকায়ন করা হচ্ছে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন