ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিজিটাল ব্যাংকের যাত্রায় বড় শঙ্কা সাইবার নিরাপত্তা

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৯:৫০:০৯
ডিজিটাল ব্যাংকের যাত্রায় বড় শঙ্কা সাইবার নিরাপত্তা

শাখা-উপশাখা ছাড়াই মোবাইল ফোনে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে দেশের পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক। বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, টেলিযোগাযোগ ও শিল্পগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততায় এসব ব্যাংক চালু হলে ব্যাংকিং সেবায় নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যাংকগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন।

সম্প্রতি পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলো হলো—কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ও বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চারটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড। এর আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও নতুন শর্তে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আবেদন করার সময় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে। শর্ত পূরণের পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

মূলধন বেড়েছে

ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের শর্তও কঠোর করা হয়েছে। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। আগের নীতিমালায় এই সীমা ছিল ১২৫ কোটি টাকা।

উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ হওয়ার শর্তও প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

শাখা ছাড়াই ব্যাংকিং

প্রচলিত ব্যাংকের মতো শাখা, উপশাখা কিংবা কাউন্টারনির্ভর হবে না ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম। ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা স্থানান্তর, আমানত, ঋণ ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা প্রযুক্তিনির্ভর হবে। এতে শাখা পরিচালনার খরচ কমার পাশাপাশি দ্রুত গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক সেবার আওতায় আনা। প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা অনেক গ্রাহকও ঋণের সুযোগ পেতে পারেন।

বড় ঝুঁকি সাইবার নিরাপত্তা

ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি প্রযুক্তি, তথ্য ও অ্যালগরিদমনির্ভর হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেশি। সাইবার হামলা, গ্রাহকের তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখল ও ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিংয়ের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে গ্রাহকের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা এবং প্রযুক্তিগত বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন দেশি-বিদেশি ৫২টি প্রতিষ্ঠান ও জোট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। ওই দফায় কড়ি ও নগদ ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়া হলেও শর্ত পূরণ না হওয়ায় কড়ির অনুমোদন স্থগিত হয়। পরে নীতিমালায় পরিবর্তন এনে ২০২৫ সালে নতুন করে আবেদন নেওয়া হলে ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সেসব আবেদনের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।

পাঠকের মতামত:

ব্যাংক এর সর্বশেষ খবর

ব্যাংক - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন