ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পরামর্শ নিতেই ৬৮ কোটি টাকা

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৮:৩০:৫৩
পরামর্শ নিতেই ৬৮ কোটি টাকা

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ তৈরি করছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেওয়া হচ্ছে ২১৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প। তবে প্রকল্পটির পরামর্শক খাতেই রাখা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এ খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরামর্শক খাতে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভায় প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘সোশ্যাল প্রোটেকশন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন’ (এসপিডিটিসি) প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১৯ কোটি ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসপিইসি সভায় প্রায় ৬৮ কোটি টাকার পরামর্শক ব্যয়ের বিস্তারিত যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া হবে। পাশাপাশি দেশীয় নাকি বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ করা হবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

আরও যেসব ব্যয়ে প্রশ্ন

প্রকল্পটিতে সেমিনার ও সম্মেলন খাতেও প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের অর্থও রয়েছে। এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ পরিপত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইবে পরিকল্পনা কমিশন।

এ ছাড়া পিইসি সভার আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ ভাতা বাদ না দেওয়ার কারণ এবং প্রকল্পের অফিস ভাড়ার বিষয়েও প্রশ্ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের পদ ও জনবল-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পে অনিয়মিত শ্রমিক রাখার বিধান কেন রাখা হয়েছে, সেটিও জানতে চাওয়া হবে।

১৬৯ কোটি থেকে বেড়ে ২১৬ কোটি

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৬৯ কোটি ৬৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। পরে পুনর্গঠিত টিএপিপিতে (টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রপোজাল) ব্যয় ৪৬ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২১৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ব্যয় বাড়ানোর কারণও এসপিইসি সভায় জানতে চাওয়া হবে।

কী করা হবে প্রকল্পে

একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন ও সেবা দেওয়ার ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।

প্রকল্পের আওতায় ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি তৈরি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগ স্থাপন, রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড এবং স্বয়ংক্রিয় যাচাইব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর ফলে সুবিধাভোগী নির্বাচনে ম্যানুয়াল ত্রুটি কমানোর পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করা হবে।

এ ছাড়া একক রেজিস্ট্রি, জিটুপে (সরকার থেকে ব্যক্তি) পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনাতথ্য ব্যবস্থা (এমআইএস) উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই করার উদ্যোগ থাকবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটি ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন’ অধ্যায়ের ‘দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা’ অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকল্পটির জন্য মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) প্রত্যয়নপত্রও দেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন