ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

২,৩৬৭ কোটি লোপাটের অভিযোগ, গ্রাহকদের পাওনা ৩,৩১০ কোটি

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৯:৩৫:১৫
২,৩৬৭ কোটি লোপাটের অভিযোগ, গ্রাহকদের পাওনা ৩,৩১০ কোটি

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ২ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার বেশি অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ভুয়া ভাউচার এবং বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে জমি ও ভবন কেনার নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বীমার টাকা না পেয়ে কোম্পানিটির গ্রাহকদের বকেয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের পাওনা টাকা ফেরতের আশায় আগামীকাল ১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের লাখ লাখ গ্রাহক। কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হেমায়েত উল্যাহসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন সিএমএম আদালত। ওই আদেশ বাতিল এবং মামলাটির পুনঃতদন্ত চেয়ে প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম রিভিশন আবেদন করেছেন। তাঁর করা আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামীকাল।

বর্তমানে নজরুল ইসলাম ও হেমায়েত উল্যাহ কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমও চলছে।

বিশেষ নিরীক্ষায় লোপাটের চিত্র

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশে পরিচালিত বিশেষ নিরীক্ষায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ থেকে ২ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার বেশি অর্থ লোপাটের চিত্র উঠে আসে।

নিরীক্ষায় ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে জমি ও ভবন কেনার অভিযোগ পাওয়া যায়। কাকরাইল, তোপখানা রোড ও মিরপুরে জমি ও ভবন কেনার নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ নিরীক্ষায় তৎকালীন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

গ্রাহকদের পাওনা ৩,৩১০ কোটি

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে গ্রাহকদের ওপর। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফে গ্রাহকদের বকেয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা না পাওয়ায় অনেক গ্রাহক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পেয়ে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সমস্যায় পড়ছেন।

এক ভুক্তভোগী বলেন, নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় কষ্ট করে ফারইস্টে টাকা জমিয়েছিলেন। এখন সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

নজর শুনানিতে

অভিযোগপত্র গ্রহণের আদেশ বাতিল ও মামলাটির পুনঃতদন্ত চেয়ে করা রিভিশন আবেদনের শুনানিকে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, মামলার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎকৃত অর্থ বা অবৈধ সম্পদ উদ্ধার করা গেলে তা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের কাছে তাই আজকের শুনানি শুধু মামলার নিয়মিত একটি ধাপ নয়। বছরের পর বছর আটকে থাকা তাঁদের পাওনা অর্থ ফেরতের আইনি প্রক্রিয়ায় শুনানিটির ফল কী হয়, সেদিকেই এখন তাঁদের নজর।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন