ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

‘ভুয়া কাগজে’ ব্যাংকের লকার থেকে উধাও ৩ কোটি টাকার গয়না

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:২৪:১৫
‘ভুয়া কাগজে’ ব্যাংকের লকার থেকে উধাও ৩ কোটি টাকার গয়না

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের একটি করপোরেট শাখার লকার থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রহস্যজনকভাবে বের করে নেওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবাসী এক নারী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও নিজের বোনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগকারী ফারজানা রহমান (নাম পরিবর্তন করা হয়নি) যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিনি জানান, ২০১৯ সালের জুনে দেশ ছাড়ার আগে তাঁর মা অগ্রণী ব্যাংকের ৪০৯ নম্বর লকারে তাঁদের দুইজনের গয়না জমা রেখেছিলেন। এর মধ্যে ফারজানার নিজের গয়নার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং তাঁর মায়ের গয়নার মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে মা মারা গেলে ফারজানা দেশে ফিরতে দেরি করেন। গত ১২ আগস্ট তিনি ঢাকায় এসে জানতে পারেন, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন ফারহানা রহমান ব্যাংকে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিয়ে লকার খুলেছেন এবং সব গয়না তুলে নিয়েছেন।

ফারজানা অভিযোগে বলেছেন, ওই ঘোষণাপত্রে তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তিনি কখনোই লকার খোলার অনুমতি দেননি, বরং ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই ভুয়া কাগজপত্র সত্যায়িত করে দিয়েছেন বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

“আমি বিদেশে থাকাকালীন ব্যাংক আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। অথচ আমার বোন একা হাতে সব গয়না নিয়ে গেছে—এটা কীভাবে সম্ভব? ব্যাংকের ভেতরেই কেউ না কেউ জড়িত।” — ফারজানা রহমান, অভিযোগকারী

তিনি আরও বলেন, লকার খোলার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিয়মের বিপরীত।

একই সঙ্গে ফারজানা দাবি করেছেন, তিনি বিদেশ যাওয়ার আগে একটি স্বাক্ষরিত চেক তাঁর মায়ের কাছে রেখে গেলেও ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই ও ৩ আগস্ট—অর্থাৎ মা বেঁচে থাকা অবস্থায়—ওই চেক বইয়ের দুটি পাতা ব্যবহার করে ফারহানার প্রতিনিধিরা অগ্রণী ব্যাংকের দুই শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করেন।

ফারজানার মতে, ওই সময় তিনি বিদেশে ছিলেন এবং চেক ব্যবহারের কোনো কর্তৃত্ব দেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ফারহানা রহমান (সুমি) বলেন, “বোন সাত বছর আগে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় লকার বা সম্পদ সম্পর্কে আমাকে কিছু বলেননি। মা যখন বেঁচে ছিলেন, তখনও তিনি লকারের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি। আমি কোনো জালিয়াতি করিনি, বোনের পাঠানো ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি আমার কাছে আছে।”

তবে ফারজানা দাবি করেছেন, ওই ডকুমেন্ট তাঁর পাঠানো নয়, বরং তৈরি করা হয়েছে তাঁর অজান্তেই।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। “আমরা ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা তদন্ত শেষেই বলা যাবে। যদি ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণ প্রমাণিত হয়, তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অগ্রণী ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

জানা গেছে, ফারজানা রহমান রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং তাঁর আইনজীবী ফারহানা রহমানকে আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া তিনি ব্যাংকের কাছে লকার খোলার সময় ব্যবহৃত সব কাগজপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করে রেখেছেন, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাঠকের মতামত:

ব্যাংক এর সর্বশেষ খবর

ব্যাংক - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন