ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আইপিও আনতে লিস্টিং ফিতে বড় ছাড় দিচ্ছে ডিএসই

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:১০:১২
আইপিও আনতে লিস্টিং ফিতে বড় ছাড় দিচ্ছে ডিএসই

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে ভালো মানের নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তি বাড়াতে লিস্টিং ফিতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের আবেদন করলে কোম্পানিগুলো এই বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পাবে।

সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘দ্য কারেন্ট স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এ তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে বিএসইসির কমিশনাররা, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ লিস্টিং ফি একটি বড় বাধা। এ কারণে নতুন ইস্যুয়ারদের উৎসাহিত করতে ডিএসইর বোর্ড সম্প্রতি লিস্টিং ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে। একই সঙ্গে ফি সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করা কোম্পানিগুলো নির্ধারিত লিস্টিং ফির ওপর আরও ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে। এর মাধ্যমে বাজারে নতুন ও ভালো মানের কোম্পানি আনার গতি বাড়বে বলে আশা করছে ডিএসই।

নিষ্পত্তি ব্যবস্থা দ্রুত করার উদ্যোগ

বাজারের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের বিষয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, লেনদেনে গতি আনতে ‘স্ট্রিপ নেটিং’ ও ‘টি+১’ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব কার্যকর করা হবে।

বিশ্বমানের তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট নতুন করে সাজানোর কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

বন্ড তালিকাভুক্তিতে জোর

বন্ডের তালিকাভুক্তি বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে লিস্টিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ নিয়ে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া ডিএসইর ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এর কারণে কোনোভাবেই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নিজস্ব দায়বদ্ধতা কমবে না বলে জানান তিনি।

ডিএসইর এমডি নুজহাত আনোয়ার বলেন, বাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন জোরদারে ডিএসই ও বিএসইসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভালো মানের আইপিও আনা, ফ্রি মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লিস্টিং ফি কমানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তে নতুন কোম্পানি ও বন্ডের তালিকাভুক্তি বাড়তে পারে। এতে দেশের পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগও তৈরি হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন