ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ছয় মিউচুয়াল ফান্ডে এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিল

২০২৬ জুলাই ২৭ ০৮:৪৩:৫২
ছয় মিউচুয়াল ফান্ডে এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিল

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিতর্কিত বিনিয়োগের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক (অ্যাসেট ম্যানেজার) হিসেবে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি কমিশনের ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবালকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সিকিউরিটিজ আইন ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে এলআর গ্লোবাল ফান্ডগুলোর অর্থ কোয়েস্ট বিডিসিতে বিনিয়োগ করে। এতে সাধারণ ইউনিটহোল্ডাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। অভিযোগের পর কমিশন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে ২০২৫ সালের ২২ ও ৩০ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১২ ও ১৯ জানুয়ারি চারটি কারণ দর্শানোর নোটিশ ও শুনানির সুযোগ দেয়। তবে কোনো শুনানিতেই এলআর গ্লোবালের প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। তাদের লিখিত ব্যাখ্যাও কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী ছিল। এ কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৩১(৩) অনুযায়ী তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৯৭তম কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকা এবং দুর্বল আর্থিক অবস্থার পদ্মা প্রিন্টার্স (বর্তমান কোয়েস্ট বিডিসি)-এর ৫১ শতাংশ শেয়ার বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে কিনে ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে এলআর গ্লোবাল। সে সময় কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারদর ছিল ১৩ টাকার কিছু বেশি, অথচ প্রতিষ্ঠানটি প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ার ২৮৯ টাকায় কিনেছিল।

এ ছাড়া, কোয়েস্ট বিডিসির শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে ইস্যুর অনুমোদন থাকলেও এলআর গ্লোবাল তা ১৫ দশমিক ৮৮ টাকায় কিনে। একই সময়ে এলআরজি ভেঞ্চার একই শেয়ার ১০ টাকায় ক্রয় করায় ওই প্রতিষ্ঠানের মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটহোল্ডাররা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

বিএসইসির অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এলআর গ্লোবাল শেয়ার ক্রয়ে সিকিউরিটিজ আইনের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে, ট্রাস্টির পূর্বানুমোদন ছাড়াই পরিচালনায় অংশ নিয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে এবং ২০২২ সাল থেকে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা ফান্ডগুলোতে না দিয়ে ইউনিটহোল্ডারদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলআর গ্লোবালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও) রিয়াজ ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন