ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

আমরা টেকের শেয়ারে সন্দেহজনক উত্থান, আড়াই মাসে দর বেড়েছে ৭৭.৬৯ শতাংশ

২০২৬ আগস্ট ২২ ০৯:৩৯:৫১
আমরা টেকের শেয়ারে সন্দেহজনক উত্থান, আড়াই মাসে দর বেড়েছে ৭৭.৬৯ শতাংশ

অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা আমরা টেকনোলজিস লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের ঘটনা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারটির দামে অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত বুধবার বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় ডিএসইকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আড়াই মাসে দর বেড়েছে ৭৭.৬৯ শতাংশ

বাজার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২০ মে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারের দাম ছিল ১৩ টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ৯ আগস্ট তা ২৩ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে। পরে অবশ্য কিছুটা কমেছে শেয়ারটির দাম।

২০ মে থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাসেরও কম সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা বা ৭৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ ছাড়াই এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে।

যেসব বিষয় তদন্ত হবে

বিএসইসির নির্দেশনায় আমরা টেকনোলজিসের শেয়ার নিয়ে কয়েকটি বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত বা কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না;অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং করা হয়েছে কি না;স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিনসংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে মেনেছেন কি না;সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ব্যর্থতা বা দায় রয়েছে কি না;সিকিউরিটিজ আইন বা কমিশনের অন্য কোনো নির্দেশনা লঙ্ঘন হয়েছে কি না।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালার সম্ভাব্য লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে।

তদন্ত দ্রুত শেষ করার তাগিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে এর পেছনে কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে বিএসইসির নির্দেশিত তদন্ত দ্রুত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি আমরা টেকনোলজিস ২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার রয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৭ হাজার ৪৪২টি।

সর্বশেষ ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩০ দশমিক ০১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩২ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন