ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বেটিং বন্ধের সিদ্ধান্তে বড় আর্থিক চাপে ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২০:০৮:০৪
বেটিং বন্ধের সিদ্ধান্তে বড় আর্থিক চাপে ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবল

খেলাধুলা ডেস্ক : ব্রাজিলের ফুটবলে মাঠের বাইরের এক সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা অনলাইন বেটিং কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে অধ্যাদেশে সই করেছেন। এতে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশটির শীর্ষ ক্লাবগুলোর।

ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল লিগ ব্রাসিলেইরো সিরি ‘আ’-এর ২০টি দলের মধ্যে ১৪টির প্রধান স্পনসর বেটিং কোম্পানি। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গালাপাগোস ক্যাপিটালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর মোট বাণিজ্যিক আয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ এসেছে বেটিং খাত থেকে। অঙ্কের হিসাবে যা প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার।

সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি ফ্ল্যামেঙ্গোর সঙ্গে। বেটিং কোম্পানির সঙ্গে ক্লাবটির বার্ষিক চুক্তির মূল্য ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে রেকর্ড। এই অর্থের একটি অংশ দিয়েই এ বছর ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে দলে ভেড়ায় ফ্ল্যামেঙ্গো।

নিষেধাজ্ঞার পর ফ্ল্যামেঙ্গোর সভাপতি লুইজ এদুয়ার্দো বাতিস্তা এক পডকাস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমি পাকেতার টাকা দেব কীভাবে?’ তাঁর মতে, বেটিং কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ক্লাবের ভবিষ্যৎ আয়, চলমান চুক্তি এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরের পর বেটিং কোম্পানির সব ধরনের বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলতে হবে। বিকল্প স্পনসর খুঁজতে শুরু করেছে ক্লাবগুলো। তবে নতুন স্পনসর পাওয়া কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

ফ্লুমিনেন্সের সভাপতি মাতেউস মন্তেনেগ্রো বলেছেন, সব ক্লাব একই সময়ে নতুন স্পনসর খুঁজতে বাজারে নামলে স্বাভাবিকভাবেই স্পনসরশিপের দর কমে যেতে পারে। ক্রুজেইরোর মালিক পেদ্রো লরেনসোর ভাষ্য, ক্ষতির প্রকৃত অঙ্ক এখনই নির্ধারণ করা কঠিন হলেও তা বড় হবে।

স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি ইনস্টিটিউট ‘সাও দু এস্পোর্তে’র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ানা বেন্তেসের মতে, ঋণগ্রস্ত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলে তার বাণিজ্যিক মূল্য কমে যায়। ফলে বেটিং স্পনসর হারানোর পাশাপাশি ক্লাবগুলোর সম্পদের মূল্য নিয়েও চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে প্রেসিডেন্ট লুলার বক্তব্য, ক্লাবগুলোর মোট আয়ের মাত্র ৭ শতাংশ আসে বেটিং কোম্পানি থেকে। তাঁর সরকার বেটিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। লুলা বলেছেন, ‘হয় আমি জুয়া শেষ করব, নতুবা জুয়া ব্রাজিলকে শেষ করে দেবে।’

অন্যদিকে, বেটিং খাতের প্রধান সংগঠনগুলো অধ্যাদেশটিকে অসাংবিধানিক দাবি করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সিনেটের হাতে ১২০ দিন সময় রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাবগুলোকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্য সরকার। তবে ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর সঙ্গে সরকারের চলতি সপ্তাহের নির্ধারিত বৈঠক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবলে বেটিং কোম্পানির অর্থের প্রভাব কতটা, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় সাম্প্রতিক সাফল্যে। লিবার্তাদোরেসের সর্বশেষ ১৪টি ফাইনালের ১২টিতেই খেলেছে কোনো না কোনো ব্রাজিলিয়ান ক্লাব। সর্বশেষ সাত আসরের ট্রফিও গেছে ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর ঘরে।

ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দামি ১০টি ক্লাবের ৯টিই ব্রাজিলের। ২০১৯ সালের পর থেকে বেটিং কোম্পানিগুলো বিপুল অর্থ নিয়ে ফুটবলে প্রবেশের পর ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও দল গঠনের শক্তি আরও বেড়েছে।

ফ্ল্যামেঙ্গোর দাবি, বেটিং থেকে পাওয়া অর্থ ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবলকে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন সেই অর্থের প্রবাহ বন্ধ হলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর সাম্প্রতিক আধিপত্য কতটা টিকে থাকে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

পাঠকের মতামত:

খেলাধূলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধূলা - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন