ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

নিরীক্ষা কাজে বাঁধা : পুরো আর্থিক হিসাবের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সত্যতা  নিয়ে শঙ্কা

২০২৪ জুলাই ১০ ০৯:৪৬:২৫
নিরীক্ষা কাজে বাঁধা : পুরো আর্থিক হিসাবের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সত্যতা  নিয়ে শঙ্কা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলসের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় নিরীক্ষককে বাঁধা দেওয়া হয়। এ কাজে নিরীক্ষককে শুধুমাত্র কিছু ডকুমেন্টস দেওয়া হয়েছিল। যেগুলোর আবার তথ্যের অভাবে সত্যতা যাচাইযোগ্য ছিল না।যে কোম্পানিটির ম্যানেজমেন্টের কর্মকাণ্ডে আর্থিক হিসাবের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। যাতে ১ বছর অব্যবহৃত থাকার পরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আগের অর্থবছরের মজুদ পণ্যকেই ক্রয় মূল্যে দেখিয়েছে ২০২৩ সালের ৩০ জুন। এক্ষেত্রে তারা ওই মজুদ পণ্য অব্যবহৃত থাকায় দর কমে আসার যে সম্ভাবনা থাকে, সেটাকে বিবেচনায় নেয়নি। এছাড়া ওই মজুদ পণ্যের সত্যতা সরেজমিনে যাচাই করতে না পারার কারনে, প্রকৃত অবস্থা জানা যায়নি। এমনকি ওই মজুদ পণ্য আসলেই আছে কিনা, তা নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নিরীক্ষককে কোন প্রমাণাদি বা তথ্যাদি দেয়নি। যাতে প্রকৃতপক্ষ্যে মজুদ পণ্যের অস্তিত্ব নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

এ কোম্পানিটি ২০০৯ সাল থেকে লোকসান করে আসছে। যাতে করে ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৫২ কোটি ২২ লাখ টাকা। এরমধ্যে কারখানা বন্ধ, ঋণ সুবিধা বন্ধে চলতি মূলধনের ঘাটতি ও ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কোম্পানিটির এসব অবস্থার কারনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

এপেক্স ওয়েভিং কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ব্যয়, ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যয়, অগ্রিম প্রদান, এলসি দায় প্রদান ও বিবিধ পাওনাদারের বিষয়ে নিরীক্ষককে সঠিক প্রমাণাদি দেয়নি। যারা সঠিক হিসাব রক্ষণাবেক্ষন করেনি।

আরও পড়ুন......

উৎপাদন বন্ধ সত্ত্বেও বিদ্যুৎ-ওয়াসা ব্যয় : নিরীক্ষকের শঙ্কা অন্য কোম্পানির কার্যক্রম চলে

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটিতে বিনিয়োগকারীদের ৭৪ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে। তবে এ অর্থ রাখার জন্য পৃথক কোন ব্যাংক হিসাব নেই। এছাড়া বিএসইসির নির্দেশ না অনুযায়ি ওই অবন্টিত লভ্যাংশ কোন কোন বছরের এবং বিও হিসাব অনুযায়ি বিস্তারিত তথ্য নেই।

অনিয়মের বিষয়ে শেয়ারাবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, অর্থবছর শেষে নিরীক্ষকের মতামতসহ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন কমিশনে আসে। যা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাচাই-বাছাই করে। এতে কোন অনিয়ম বা অসঙ্গতি পেলে, কমিশন আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এপেক্স ওয়েভিংয়েও তার ব্যতিক্রম হবে না।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এপেক্স ওয়েভিংয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, নিরীক্ষকতো আমাদেরকে এসব কিছু জানায়নি। এমনতো হওয়ার কথা না।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এসএমইতে তালিকাভুক্ত হওয়া এপেক্স ওয়েভিংয়ের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৬৯.৮৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ছাড়া) বিনিয়োগকারীদের হাতে। কোম্পানিটির মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২.৬০ টাকায়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন