ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

শেয়ারবাজার ধসে রাষ্ট্র চুপ থাকায় প্রশ্ন তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা

২০২৫ মে ০১ ১৫:০৮:৫৪
শেয়ারবাজার ধসে রাষ্ট্র চুপ থাকায় প্রশ্ন তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার নিয়ে জ্ঞান শুন্য খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই বাজারে মন্দা চলছে। তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে অর্ধ লাখ কোটি টাকার বেশি পুঁজি। সবচেয়ে বেশি বাজে সময় পার করছে গত ৩ সপ্তাহ ধরে। এসময় শেষ ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে ১২ কার্যদিবসই পতন হয়েছে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তবে চলমান এই সমস্যা একমাত্র খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগের মাধ্যমে সমাধান। যা শেয়ারবাজারের সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে একমত। তারপরেও এই অযোগ্য কমিশন বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোকে পাত্তা না দিয়ে নির্লজ্জতার সঙ্গে চেয়ার আঁকড়ে ধরে রেখেছে।

শেয়ারবাজারের এই শোচণীয় অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা।বাজারের এমন অবস্থায়ও সরকারের চুপ থাকায় প্রশ্ন তুলেছে তারা। বুধবার (৩০ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে এই আক্ষেপ তুলে ধরেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা।

ফেসবুকে পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা জানতে চান, শেয়ারবাজার ধসের কারণ কি এবং এর সমাধান কি?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওই প্রশ্নের আলোকে ২৫৬ জন ধসের কারন ও সমাধানের উপায় জানিয়েছেন। এরমধ্যে প্রায় সবাই শেয়ারবাজারের মন্দার জন্য খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অযোগ্যতা দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে সমাধানে তার অপসারন চেয়েছেন।

মুহাম্মদ রুবেল নামের একজন শেয়ারবাজারের চলমান শোচণীয় অবস্থার জন্য স্বৈরাচার এর দোষর ব্যাংক লুঠেরা বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদকে দায়ী করেছেন। এরমধ্যে অর্থ উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তাই কোন আন্দোলন করে ওনাকে নামানো যাচ্ছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদেরকে দয়া করে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে সঠিক বিষয়টি জানাতে অনুরোধ করেছেন। তিনি ছাত্রদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর পাশে দাড়াতে এবং অথর্ব ও অপদার্থ অযোগ্য চেয়ারম্যানকে সরিয়ে যোগ্য আশিক চৌধুরীর মতো মেধাবী সৎ ও যোগ্য লোকের মাধ্যমে শেয়ারবাজারকে বাঁচানোর আকুতি করেছেন।

রুবেলের মতো অন্যান্যরাও মাকসুদ কমিশনের অপসারন চেয়েছেন। তাদের দাবি, রাশেদ মাকসুদ কমিশন অথর্ব ও অযোগ্য। তাদের শেয়ারবাজার নিয়ে কোন জ্ঞান নেই।

এই কমিশনের পদত্যাগের মাধ্যমে যে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে, তা গত রবিবার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওইদিন দুপুরে খবর আসে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগে চাঁপ দেওয়া হয়েছে। যে কারনে তিনি বিএসইসি থেকে বেরিয়েও গেছেন। এমন খবরে শেয়ারবাজার ঋণাত্মক থেকে ইতবাচকতার দিকে ধাবিত হয়।

দেশের শেয়ারবাজার টানা ৯ কার্যদিবস ধরে পতনে ছিল। যার ধারাবাহিকতায় গত রবিবারও শেয়ারবাজারে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বড় পতন দেখা যায়। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিএসইএক্স ৫০ পয়েন্টের বেশি কমে গিয়েছিল। যা দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত ছিল।

এরপরে রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের বিভিন্ন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই ইউটার্ন নিতে শুরু করে শেয়ারবাজার।

তবে বিনিয়োগকারীদেরকে হতাশ করে তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। তাই স্বাভাবিকভাবেই সোমবার থেকে শেয়ারবাজারে পতনে রয়েছে।

গত বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিএসইএক্স ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯১৮ পয়েন্টে। যা আগের দিন কমেছিল ১৭ পয়েন্ট। এর আগে চলতি সপ্তাহের সোমবার ৪৩ পয়েন্ট কমেছিল এবং রবিবার মাকসুদের পদত্যাগের গুঞ্জনে ২৩ পয়েন্ট বেড়েছিল।

তবে এর আগের ৯ কার্যদিবসের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৫০ পয়েন্ট, বুধবার ৪ পয়েন্ট, মঙ্গলবার ১৮ পয়েন্ট, সোমবার ৩০ পয়েন্ট, রবিবার ২৩ পয়েন্ট এবং আগের সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ৮ পয়েন্ট, বুধবার ২৬ পয়েন্ট, মঙ্গলবার ৩৮ পয়েন্ট ও সোমবার ৩৬ পয়েন্ট কমে। এই ৯ কার্যদিবসে ২৩৩ পয়েন্ট পতন হয়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন