ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

উসমানিয়া গ্লাসের ব্যবসায় ফেরা অনিশ্চিত

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:২৬:৫০
উসমানিয়া গ্লাসের ব্যবসায় ফেরা অনিশ্চিত

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরীর পূণঃরায় ব্যবসায় ফিরে আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারন এরইমধ্যে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গ্যাস লাইনও নিজ উদ্যোগে বন্ধ করে দিয়েছে।

কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় নিরীক্ষক এ তথ্য দিয়েছেন।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ২টি উৎপাদন লাইনের মধ্যে ১টি ২০১৮-১৯ অর্থবছর এবং আরেকটি ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গ্যাস লাইন নিজ উদ্যোগে বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এই গ্যাস লাইন বিচ্যুতি কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসায় ফেরাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তবে সরকার যেহেতু ৫১ শতাংশ মালিকানায় রয়েছে, সেহেতু কোম্পানিটির সংকট কাটিয়ে তুলতে এগিয়ে আসবে বলে একটি প্রত্যাশা রয়েছে।

চরম অর্থ সংকটে থাকা উমসানিয়া গ্লাসের কর্মীদের বেতন পরিশোধে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) থেকে ঋণ নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন....

সাত কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানিতে ৫৮ কোটি টাকার অনিয়ম

এদিকে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-৩৬ অনুযায়ি স্থায়ী সম্পদের ইমপেয়ারম্যান্ট টেস্ট করেনি উসমানিয়া গ্লাস শীট কর্তৃপক্ষ। অথচ প্রতিবছর ইমপেয়ারম্যান্ট টেস্ট করানো উচিত। এর মাধ্যমে আর্থিক হিসাবে দেখানো সম্পদ মূল্য ও ওই সম্পদের প্রকৃত মূল্যের মধ্যে পার্থক্য আছে কিনা, তা দেখা হয়। যদি প্রকৃত মূল্য কম হয়ে থাকে, তাহলে অবচয়ের ন্যায় ব্যয় দেখাতে হয়। যাতে করে সম্পদ ও মুনাফা কমে আসে।

উসমানিয়া গ্লাস শীটের আর্থিক হিসাবে মজুদ পণ্য হিসেবে ৪.২৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ পুরাতন বা নষ্ট হয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় এবং উৎপাদন বন্ধ থাকার কারনে। এ হিসাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মজুদ পণ্য হিসেবে আর্থিক হিসাবে অতিরঞ্জিত সম্পদ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক।

উল্লেখ্য, সরকার নিয়ন্ত্রিত উসমানিয়া গ্লাসের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (০6 জানুয়ারি) লেনদেন শেষে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৩১.৪০ টাকায়।

এ কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে (৫.৩৪) টাকা। নিয়মিত লোকসানে থাকা কোম্পানিটি থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে গেছে ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে