ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

বিএসইসির চেয়ার ছাড়তেই হচ্ছে রাশেদ মাকসুদকে

২০২৬ এপ্রিল ২১ ২২:২১:০৪
বিএসইসির চেয়ার ছাড়তেই হচ্ছে রাশেদ মাকসুদকে

চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন শেয়ারবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অযোগ্য চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। অবশেষে তাকে চেয়ার ছাড়তেই হচ্ছে। তাকে সরানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে তাকে এ পদ থেকে সরানোর আগে কমিশন আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। এরই মধ্যে আইন পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বলবৎ থাকা ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ অনুযায়ী বিএসইসি চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ বছর। অর্থাৎ, বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো ব্যক্তি বিএসইসির চেয়ারম্যান হওয়া বা এ পদে থাকার যোগ্য হবেন না।

সরকার বিএসইসি চেয়ারম্যানের বসয়সীমা আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। এক্ষেত্রে তা পাঁচ বছর কমিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ বছর করা হতে পারে। অর্থাৎ, ৬০ বছর পূর্ণ হলে কোনো ব্যক্তি বিএসইসি চেয়ারম্যান হওয়া বা এ পদে থাকার যোগ্য হবেন না। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিএসইসি কমিশনারদের বয়সসীমাও কমিয়ে ৬০ বছর করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইন পরিবর্তন করার পরপরই বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-তে। বর্তমানে আইডিআরএ চলছে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ওই বছরের ১৮ আগস্ট ৪ বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান।

রাশেদ মাকসুদ বিএসইসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। এই দরপতনের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং রাশেদ মাকসুদের অপসারণ দাবিতে দিনের পর দিন বিক্ষোভ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এমনকি একই দাবিতে মতিঝিলে বিনিয়োগকারীদের ‘কাফন মিছিল’ও হয়।

তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিনিয়োগকারীদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত করেনি। বরং তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের প্রসংশা করেন। এমনকি একটি বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অনেকের দাবি থাকলেও শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে পদ থেকে সরাতে চাই না।’

এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পর বিএসইসি চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়েও গুঞ্জন জোরালো হয়। এর মধ্যেই আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান পদ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এম আসলাম আলম পদত্যাগ করলে, বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ নিয়েও গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগে।

তবে এখনো চেয়ারম্যান পদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। কারণ, তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেননি এবং সরকার এখনো তাকে সরিয়ে দেয়নি। যদিও তাকে সরানোর প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে