ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরামর্শে আসছে নতুন নিয়ম

২০২৬ জুলাই ৩০ ১৬:০৭:৪৮
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরামর্শে আসছে নতুন নিয়ম

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরামর্শ কার্যক্রমকে আরও নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বিদ্যমান নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে গবেষণা বিশ্লেষক বিধিমালা পর্যালোচনা করে একটি আধুনিক বিনিয়োগ পরামর্শ কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার বিএসইসির আইন বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে গবেষণা বিশ্লেষকদের জন্য একটি বিধিমালা থাকলেও সেখানে নিবন্ধন, অনুমতিপত্র প্রদান, নবায়ন এবং কার্যকর তদারকির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নেই। ফলে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, কমিশনের লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বিনিয়োগ পরামর্শকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় এনে অনুমতিপত্র প্রদান, নির্ধারিত সময় পরপর নবায়ন, বিধি প্রতিপালন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা গবেষণাভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য পরামর্শ পাবেন এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরামর্শ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ হবে।

গঠিত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রাকিবুর রহমান, উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ওয়ারিসুল হাসান রিফাত এবং সহকারী পরিচালক মেহরান আলী, যিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

বর্তমানে কার্যকর গবেষণা বিশ্লেষক বিধিমালা-২০১৩ অনুযায়ী গবেষণা বিশ্লেষকদের সংজ্ঞা, যোগ্যতা, গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের মানদণ্ড, স্বার্থের সংঘাত, বিধিনিষেধ এবং গবেষণা পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ করা রয়েছে। এসব বিধির আওতায় গবেষণা বিশ্লেষকরা তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিভিন্ন শিল্পখাত এবং সামগ্রিক শেয়ারবাজার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেন।

তবে বিদ্যমান বিধিমালায় গবেষণা বিশ্লেষকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, অনুমতিপত্র গ্রহণ, নবায়ন এবং নিয়মিত বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান নেই। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ পরামর্শ দিয়ে আসছেন, যাদের কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বাস্তবতায় কমিশন গবেষণা বিশ্লেষক বিধিমালাকে আরও শক্তিশালী করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ পরামর্শ কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। সম্ভাব্য নতুন নীতিমালায় বিনিয়োগ পরামর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন বা অনুমতিপত্র, নির্ধারিত সময় পরপর নবায়ন, নিয়মিত বিধি প্রতিপালন, গবেষণাভিত্তিক পরামর্শ প্রদান, নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কমিশনের সরাসরি তদারকির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

নতুন কাঠামো কার্যকর হলে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কমিশনের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত বিনিয়োগ পরামর্শকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীর কাছেই থাকবে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিতভাবে শেয়ার কেনাবেচার পরামর্শ দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব পরামর্শ বিভ্রান্তিকর বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো কার্যকর হলে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম কমবে এবং বিনিয়োগ পরামর্শ খাত আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন