ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ারবাজারের ধসের পর রুপি নামল সর্বনিম্নে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ০৮:২৪:৩১
শেয়ারবাজারের ধসের পর রুপি নামল সর্বনিম্নে

শেয়ারবাজারে টানা ধসের পর এবার চাপে পড়ল ভারতীয় মুদ্রাও। অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার জেরে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেল ভারতীয় রুপি। জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে এশীয় অঞ্চলের শেয়ার ও মুদ্রা— উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে।

সোমবার দিনের শেষে প্রতি ডলারের নিরিখে রুপির দাম ০.২% কমে দাঁড়ায় ৯৫.৯৮২৫ টাকায়। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দাম আরও পড়ে গিয়ে ৯৬.০৫ টাকায় লেনদেন শুরু হয়। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটের হিসাবে তা দাঁড়ায় ৯৬.০৭ টাকায়। সম্ভবত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ডলার বিক্রি করায় রুপির দরপতন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তা পুরোপুরি থামানো যায়নি।

তেলের দামই প্রধান কারণ

টাকার দাম পড়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ অপরিশোধিত তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪% বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১০৮.২ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে আরও আলোচনায় বসতে পারে আমেরিকার মধ্যস্থতাকারীরা। এর প্রতিক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা বন্ডের ইল্ড বাড়িয়ে দেন এবং শেয়ারের দর কমিয়ে দেন। এশীয় শেয়ার সূচক এমএসসিআই প্রায় ১% এবং মুম্বইয়ের শেয়ার সূচক এনএসইআই প্রায় ১.৫% কমে এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

ভারতের ঝুঁকি বেশি

ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৯০% আমদানি করে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার তেলের বাজারে কোনও অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্বের যে সব মুদ্রা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, রুপি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। সমীক্ষক সংস্থা ‘গোল্ডম্যান স্যাক্স’-এর বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এশীয় উদীয়মান বাজারের উচ্চ-আয়ের মুদ্রাগুলি— যেমন ফিলিপিনো পেসো, ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া এবং ভারতীয় রুপি— নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারীই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। তবে তারা এ-ও দাবি করেছেন, রুপির মান ৯৪-৯৭ সীমার মধ্যে ধরে রাখার বা অন্তত এর অবমূল্যায়নের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আরবিআইয়ের রয়েছে।

পুঁজি প্রবাহে কিছুটা ভরসা

নীতিগত পদক্ষেপের ফলে বিপুল পরিমাণ পুঁজি বা মূলধন প্রবাহ ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে বাজারের প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। ৮ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৪,৩৬০ কোটি ডলারের পুঁজি দেশে এসেছে। তবে বিনিয়োগকারীরা লক্ষ্য রাখছেন, এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ কত দিন বজায় থাকে।

শেয়ারবাজারে ধস

উল্লেখ্য, সোমবার ভারতীয় শেয়ারবাজারেও ধস নামে। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই খাদে নামে সূচক— যা গত ছ’মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। টানা সাত সপ্তাহের লেনদেনে স্টকের রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে লোকসানের অঙ্ক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, সব মিলিয়ে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

সোমবার সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে শেয়ার সূচক। দিন শেষে দেখা যায় ১,১২৪.০২ পয়েন্ট পড়েছে সেনসেক্স। ফলে ৭২,৭৭১.৭২ পয়েন্টে দৌড় থামায় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)। শতাংশের নিরিখে পতনের পরিমাণ ১.৫২। একই ছবি দেখা গিয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও (এনএসই)। সোমবার ১.৫৬ শতাংশ পড়ে যায় নিফটি-৫০। ফলে ৩৬০.২৫ পয়েন্ট নামে এনএসই-র এই সূচক। সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনে সেনসেক্স-নিফটির ‘দুর্বল ব্যাটিং’ দেখে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও আপাতত পরিস্থিতি বদলের কোনও আশা দেখাতে পারেননি তাঁরা।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন