ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

১৪ হাজার বিনিয়োগকারীর শেয়ার গায়েব : সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে মামলা

২০২৬ অক্টোবর ১২ ০৮:১৬:০৮
১৪ হাজার বিনিয়োগকারীর শেয়ার গায়েব : সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে মামলা

বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও নগদ অর্থ মিলিয়ে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্রোকারেজ হাউজ সালতা ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মামলায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), জেনারেল ম্যানেজারসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কমিশন এ মামলা করেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালত-১২-তে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ১৭১২/২০২৬। তবে পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তে উঠে এসেছে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার অভিযোগ

২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আকস্মিক পরিদর্শনে সালতা ক্যাপিটালের কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ঘাটতি শনাক্ত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিষয়টি বিএসইসিকে জানানোর পর ২৬ নভেম্বর ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২১ মে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. ইকবাল হোসেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে।

সূত্রের দাবি, সালতা ক্যাপিটালের প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার গোপনে বিক্রি করা হয়। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। শেয়ার বিক্রির পর প্রাপ্ত অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সিসিএ থেকে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। দুই খাত মিলিয়ে অভিযোগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

২০২৫ সালের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি এবং নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর সালতা ক্যাপিটালের নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিএসইসি। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ও ডিপি (ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট) কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযুক্তদের ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ লক্ষ্যে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসিকে অভিযুক্তদের বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন। আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ করা অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

যোগাযোগের চেষ্টা, পাওয়া যায়নি দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালতা ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ মো. শহীদুল্লাহ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মো. মাসুদ রানা খান জানান, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নিশ্চিত হয়নি। মামলাটি এখনো শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।

ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন ডুপ্লিকেট ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসিতে (সিডিবিএল) গ্রাহকদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেখানে প্রকৃত গ্রাহকদের নম্বরের পরিবর্তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন নম্বর যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

এর ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা তাঁদের শেয়ার লেনদেনের বার্তা পেতেন না। পাশাপাশি তাঁদের কাছে পাঠানো হতো ভুয়া হিসাব বিবরণী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত ও বাজার তদারকি জোরদার করতে ডিএসই ইন্টিগ্রেটেড মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (ডিএসই-আইএমওএন) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন