ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ টানতে যৌথ শিল্পায়নের পরিকল্পনা

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ০৮:২৯:৪২
থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ টানতে যৌথ শিল্পায়নের পরিকল্পনা

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যৌথ শিল্পায়ন, সরাসরি সমুদ্রপথ চালু এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাজারে প্রবেশ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ পরিকল্পনার কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এর আগে তিনি থাইল্যান্ড চেম্বারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের বদলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় সাড়ে ৮ কোটি ডলার। এতে দুই দেশের মধ্যে বছরে ৯৫ কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, শুধু আমদানি-রপ্তানি বাড়িয়ে এই ঘাটতি কমানো কঠিন। তাই যৌথ উৎপাদন, পারস্পরিক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালাল খাদ্য উৎপাদনকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো মৌসুমি ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে থাইল্যান্ডের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

হিমাগার ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে প্রতিবছর দেশে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা। এ সমস্যা কমানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত হালাল খাদ্য বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যেও থাই বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায় সরকার।

চট্টগ্রাম-রেনং সরাসরি সমুদ্র সংযোগের পরিকল্পনা

দুই দেশের পণ্য পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর এবং থাইল্যান্ডের রেনং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্র যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনে সুবিধা হতে পারে।

পাশাপাশি থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর জোর

থাইল্যান্ডের পাশাপাশি চীন ও জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে সরকার। জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি করপোরেশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালুর জন্য ৭ শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের বিশেষ সুবিধার কথাও উল্লেখ করেছেন উপদেষ্টা। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন