ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

শেয়ারবাজারে ৫৬ শতাংশ সরকারী কোম্পানি লোকসানে

২০২৪ মে ৩০ ০৯:০০:১০
শেয়ারবাজারে ৫৬ শতাংশ সরকারী কোম্পানি লোকসানে

ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান): ঢাকার কেন্দ্র শাহবাগে বিশাল জায়গাজুঁড়ে অবস্থান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব পাঁচ তারকা মানের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (বিডি সার্ভিসেস)। তবে সরকারী অন্যসব কোম্পানির ন্যায় এ হোটেলটিও অব্যবস্থাপনা ও দূর্ণীতিতে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। যে কোম্পানিটির নিয়মিত লোকসানের কারনে পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৬ গুণ পূঞ্জীভত লোকসান হয়ে গেছে। যাতে কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। অথচ বেসরকারী অন্যসব হোটেলগুলো নিয়মিত মুনাফা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।

ইন্টারকন্টিনেন্টালের ২০২৩ সালের ৩০ জুন পূঞ্জীভূত লোকসানের (রিটেইন লস) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া চলতি সম্পদ ঘাটতির পরিমাণ ৩৮১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যে কোম্পানিটির ২০২২-২৩ অর্থবছরে যথেষ্ট পরিমাণ লোকসান এবং ঋণাত্মক পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে। বিদ্যমান এই শোচণীয় দুরাবস্থার কারনে কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

মুনাফার অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকার এবং বিনিয়োগকারী, কেউই ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে তাদের বিনিয়োগের রিটার্ন পাচ্ছে না। তাই সরকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে পারলেই শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়বে এবং এগিয়ে যাবে বলে মনে করা হলেও বাস্তবে তেমনটি না।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫ শতাংশের কম লোকসানে থাকলেও সরকারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সে হার ৫৬ শতাংশ। এরমধ্যে আবার কয়েকটি সরকারী কোম্পানির অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এছাড়া ৪৪ শতাংশ কোম্পানি থেকে শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ পাচ্ছেন না। সার্বিক এমন পারফরমেন্সের পরেও ২-৪টি কোম্পানির কথা বিবেচনা করে সরকারী অন্যসব কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু সরকারী কোম্পানির ব্যবসা এবং লভ্যাংশ প্রদানের হার অনেক ভালো। এসব কোম্পানির মধ্যে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম উল্লেখযোগ্য। আর এইসব কোম্পানির পারফরমেন্স মাথায় রেখেই অন্যসব সরকারী অতালিকাভুক্ত কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার জন্য গত কয়েক বছর ধরে দাবি করা হচ্ছে। আর এই দাবির আলোকে অর্থমন্ত্রণালয় থেকেও নিয়মিত আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। যদিও তা দীর্ঘদিনে বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে শেয়ারবাজারে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মতো ভালো কোম্পানি যেমন আছে, ঠিক একইভাবে সরকারী ঝিলবাংলা সুগার মিলস ও শ্যামপুর সুগার মিলসের মতো দূর্বল কোম্পানিও আছে। যেগুলো লভ্যাংশ দেওয়া তো দূরে থাক, নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু সরকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার দাবির ক্ষেত্রে এইসব কোম্পানির কথা কখনো ভাবা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন.....

এখনো এফডিআর সুদে ভর করে চলে স্টক এক্সচেঞ্জ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, বাছাই করে সরকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে হবে। ঢালাওভাবে সরকারী কোম্পানি আনার দাবি করলে হবে না। এছাড়া আনার ক্ষেত্রে ওইসব কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। যাতে শুধুমাত্র আমলা নির্ভর না হয়। অন্যথায় সরকারী কোম্পানি শেয়ারবাজারে এনে উপকার হবে না।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫৯টি কোম্পানির মধ্যে (বন্ড, ডিবেঞ্চার, ফান্ড ছাড়া) সরকার নিয়ন্ত্রিত ও অধিকাংশ মালিকানার কোম্পানির সংখ্যা ১৮টি। এরমধ্যে ১০টি বা ৫৬ শতাংশ কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থবছরে লোকসান হয়েছে। তবে সামগ্রিক শেয়ারবাজারে লোকসানী কোম্পানির হার অনেক কম।

সরকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮টির বা ৪৪ শতাংশ কোম্পানি থেকে সর্বশেষ বছরের ব্যবসায় কোন লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে ৩টি কোম্পানি অনেক বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয় না। এছাড়া নিকট ভবিষ্যতে ওই কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

এদিকে ঝিলবাংলা সুগার মিলস ও শ্যামপুর সুগার মিলস নিয়মিতভাবে বড় লোকসান গুণছে। এ কোম্পানি দুটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে নিরীক্ষক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে সরকারী আর্থিক সহায়তা ছাড়া কোম্পানি দুটি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

নিম্নে সরকারী কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর নিয়ে প্রকাশিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস), লভ্যাংশ ও ২৯ মে’র শেয়ার দর তুলে ধরা হল-

উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে সরকার ও প্রাইভেট সেক্টেরের যৌথভাবে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) গঠিত ৩টি কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল টি ও এমজেএল বাংলাদেশ।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে