ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

সাক্ষর জাল করে এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিও

ইস্যু ম্যানেজার বিডি ক্যাপিটাল হলেও সব কাজ করে এনআরবি ইক্যুইটি

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ০৯:৫৭:৫৯
ইস্যু ম্যানেজার বিডি ক্যাপিটাল হলেও সব কাজ করে এনআরবি ইক্যুইটি

ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান) : শেয়ারবাজারে ২০২০ সালে তালিকাভুক্ত হয় প্লেসমেন্ট জালিয়াতির এসোসিয়েটেড অক্সিজেন। কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে আনতে প্রসপেক্টাসে জাল সাক্ষরসহ ভয়াবহ জালিয়াতি করে এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের কাজী সাইফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন চক্র ও ছাগল কাণ্ডের মতিউর রহমান। এতে সহযোগিতা করেন শেয়ারবাজারের আরেক আলোচিত ব্যক্তি ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন। কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংসের নাম থাকলেও সব কাজ করে এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট। যারা বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের ওইসময়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বরুণ প্রসাদ পালের সাক্ষর জাল করে ফাইলটি জমাও দিয়েছিলেন। যা শেয়ারবাজারে খুবই বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা সংশ্লিষ্টদের মতে। এজন্য পুরো চক্রকে ইতিহাসের অন্যতম শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে এ কাজে বিরোধীতা না করে এবং অন্য মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক কাজ করার জন্য বিডি ক্যাপিটাল দায় এড়াতে পারে না। তারাও কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, এক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আরেক প্রতিষ্ঠানের ইস্যু ম্যানেজারের কাজ করার সুযোগ নেই। এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের ক্ষেত্রে যদি বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের আড়ালে এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট সব কাজ করে থাকে, তাহলে উভয় প্রতিষ্ঠানই গুরুতর অনিয়ম করেছে। যেহেতু বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ইস্যু ম্যানেজার ছিল, তাই এই প্রতিষ্ঠানটিরই দায়িত্ব ছিল ইস্যু ব্যবস্থাপনার কাজ করা। এক্ষেত্রে এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের কাজ করার সুযোগ নেই। আর প্রসপেক্টাসে সাক্ষর জালকে বড় ধরনের জালিয়াতি বলে জানান তিনি। এসব বিষয়ে কমিশন খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের (বিডি ফাইন্যান্স) সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস। কোম্পানিগুলোর মালিকানায় রয়েছে আনোয়ার গ্রুপের অন্যতম মনোয়ার হোসেন। যিনি শেয়ারবাজারে আলোচিত ব্যক্তি। এরইমধ্যে শেয়ার কারসাজির দায়ে তার নেতৃত্বাধীন আনোয়ার গ্যালভানাইজিংকে জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে।

২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিডি ফাইন্যান্সের শেয়ার কারসাজির দায়ে ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ৭০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন আনোয়ার গ্যালভানাইজিংকে ৭.১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। যিনি কোম্পানিটির চেয়ারম্যান। এই কোম্পানিটির শেয়ার নিয়েও কারসাজি করা হয়।

কাজী সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারের বিতর্কিত ব্যক্তি। যিনি এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের সরাসরি মালিকানায় না থাকলেও আড়ালে থেকে এটির নেতৃত্ব দেন। যে প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় তার স্ত্রী, সন্তানসহ অন্যান্য আত্মীয়রা রয়েছেন। যাকে বিএসইসি মিথ্যা ও জাল-জালিয়াতিপূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আইপিও অনুমোদন করানো চেষ্টার দায়ে ২০১৩ সালে ৫ বছরের জন্য এবং তাঁর মার্চেন্ট ব্যাংককে ১ বছরের জন্য শেয়ারবাজার থেকে নিষিদ্ধ করেছিল।

এই সাইফুর রহমান ও মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন চক্র বিভিন্ন দূর্বল ও অযোগ্য কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার দায়িত্ব হিসেবে টাকা ছাড়া কোটি কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে থাকে। যে কারনে এরইমধ্যে একমি পেস্টিসাইডস ও রিং শাইনের শেয়ার নেওয়ার অপরাধে শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই চক্রটি দূর্বল এসোসিয়েটেড অক্সিজেনকে শেয়ারবাজারে এনেছে এবং টাকা ছাড়া ১ কোটি ৫৬ লাখ প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছে। যার দর ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

যে কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ৩ বছরের মাথায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ পায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ব্যবসায়িক মন্দায় ঋণ খেলাপি হওয়ায় কোম্পানিটির সম্পদ নিলামে তুলে বেসিক ব্যাংক।

এসোসিয়েটেড অক্সিজেন শেয়ারবাজারে আসে ইস্যু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠান বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংসের মাধ্যমে। কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে আনতে নামেমাত্র কাজ করেন ইস্যু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানটির ওইসময়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বরুণ প্রসাদ পাল। যিনি কোম্পানিটির ভূয়া অ‍্যাকাউন্টস ও গরমিল শেয়ার মানি ডিপোজিটের তথ্য জেনেও ইস্যু ম্যানেজারের কাজ করেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে বিডি ক্যাপিটালের তৎকালীন সিইও বরুণ প্রসাদ পাল বলেন, হঠাৎ করে একদিন আমার ম্যানেজমেন্ট (মনোয়ার হোসেন) বলে এমন একটি ইস্যুর (এসোসিয়েটেড অক্সিজেন) কাজ করতে হবে। তবে ওরা (এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের সাইফুর রহমানরা) তারও দুই বছর আগেই প্লেসমেন্ট করে ফেলেছে। তারা ফাইলটা জমা দেওয়ার ১-২ মাস আগে আমার কাছে আসে। এসে বলে শুধুমাত্র ইস্যু ম্যানেজারের নাম হিসেবে বিডি ক্যাপিটালের নামটা ব্যবহার করবে। এর আলোকে আমরা ইস্যু ম্যানেজমেন্ট ফি ২০ লাখ টাকা চুক্তি করি। এরপরে শুধু আমাদের নাম দিয়ে ফাইলটা জমা দেয়া হয়। বাকি সব কাজ এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টে করা হয়েছে। আমি শুধু ১০-১৫টা কাগজে সাক্ষর করেছি। আমি ভাউচার টাউচারে কোন সাক্ষর করিনি। প্রসপেক্টাসের প্রতি পৃষ্টায়ও আমি সাক্ষর করিনি। ওরা (এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের সাইফুর রহমানরা) নকল করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি ফিজিক্সের ছাত্র। অ্যাকাউন্টস বুঝি না। পোর্টফোলিওর কাজ করতাম। ইস্যু ম্যানেজমেন্টের কাজ জীবনেও করি নাই। তবে পরিচালনা পর্ষদের কারনে কাজটা করা হয়। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ি সাক্ষর করেছি। তাও সেটা শুধুমাত্র নামটা ব্যবহার করার জন্য। আমি কোম্পানির সব কাগজপত্র দেখি নাই। এমনকি প্রসপেক্টাসটাও পড়ে দেখি নাই। আর প্লেসমেন্ট শেয়ারে যে তালিকা আছে, তাদেরও আমি দেখি নাই। এছাড়া কোম্পানির লোকজনদেরকেও চিনি না। এখানে অনিয়মের জন্য বিডি ক্যাপিটাল জড়িত, ব্যক্তি হিসেবে আমার কোন দায় নেই। আমি কোন অনিয়ম করিনি। পর্ষদের কারনে ইস্যু ম্যানেজমেন্টের জন্য সাক্ষর করেছি। তবে যারা এই কোম্পানিতে অপরাধী, তাদের বিচার আমিও চাই।

এসময় তিনি বলেন, এসোসিয়েটেড অক্সিজেন নিয়ে যদি বিএসইসি তদন্ত করে এবং আমাকে ডাকে, আমি সব সত্য কথা বলে দেব।

এ বিষয়ে এক মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বরুণ পালের ভাষ্য অনুযায়ি এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিওতে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে সামনে বিডি ক্যাপিটালের নাম থাকলেও আড়ালে কাজ করেছে এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট। যেখানে মার্চেন্ট ব্যাংকের সিইও’র সাক্ষর পর্যন্ত নকল করা হয়েছে। এটা ভয়াবহ অনিয়ম। এজন্য অবশ্যই এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টসহ এরসঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি না পাওয়ার সুযোগ নেই। একইসঙ্গে বিডি ক্যাপিটাল শুধুমাত্র নাম ব্যবহার করতে দিয়েছে বলে দায় এড়াতে পারবে না। যারা এমন নাম ব্যবহার করতে দিয়ে অন্যদের স্বার্থ উদ্ধার করে, তাদের সনদ বাতিল করে দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে দায়িত্বরত কর্মকর্তাসহ পর্ষদের যারা এ কাজে জড়িত, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ডিএসইর একজন পরিচালক অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, এসব অন্যায় ও দূর্ণীতি নতুন কিছু নয়। সেগুলোই এখন উম্মোচন বা আবিস্কার হচ্ছে। ডিএসইর পর্ষদ ২০১৮-২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে অনেক প্রতিবাদ করে আইপিও নিয়ে। যাতে করে ২০-২২টি কোম্পানির আইপিও আটকে যায়। এ নিয়ে ওইসময়কালীন কমিশনের সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছিল। তবে শিবলী কমিশন দায়িত্বে এসে অনৈতিক উপায়ে সবগুলোর অনুমোদন দেয়। তার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে শেয়ারবাজার।

তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন কিছু শাস্তি প্রদান করেছেন। তবে এসোসিয়েটেড অক্সিজেন নিয়ে যে ধরনের অনিয়ম হয়েছে, এক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজার, নিরীক্ষক, ভ্যালুয়ারসহ অন্যান্যদের এমন কিছু শাস্তি প্রদান করতে হবে, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এছাড়া আরও কিছু কমন নাম আছে, তাদেরকেও উল্লেখযোগ্য শাস্তি দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস না পায়।

শেয়ারবাজারে মতিউর রহমান আইপিও নিয়ে বিনা পয়সায় প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওয়ার একটি চক্র। যার অন্যতম সহযোগি এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের সাইফুর রহমান। এরা নিজেদের সংশ্লিষ্ট ইস্যু ম্যানেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন দূর্বল কোম্পানির আর্থিক হিসাব ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে শেয়ারবাজারে আনে। এক্ষেত্রে তারা নামধারী নিরীক্ষকের সহযোগিতা নেয়। এক কথায় চক্রটি একটি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার পুরো দায়িত্ব নেয়। বিনিময়ে টাকা ছাড়া প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়। যেসব শেয়ার আইপিওতে আসার আগে ইস্যু করা হয়।

একইভাবে মতিউর চক্রের হাত ধরে শেয়ারবাজারে আসে একমি পেস্টিসাইডসের ন্যায় এসোসিয়েটেড অক্সিজেন। আর্থিক হিসাবে মুনাফা ও সম্পদ অতিরঞ্জিত করে শেয়ারবাজারে আনা হয় এ কোম্পানিটিকে। এর বিনিময়ে কোম্পানিটি থেকে মতিউর চক্র ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার নিয়েছে। এসব শেয়ারও একমি পেস্টিসাইডসের মতো টাকা ছাড়াই নিয়েছে বলে সন্দেহ সংশ্লিষ্টদের। যা তদন্ত করলেই একমি পেস্টিসাইডসের মতো আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর আরেক পরিচালক অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, মতিউর চক্রটি যে পুরো আইপিও প্রক্রিয়া করে, এ খবর অনেকেই জানে। তারা বিভিন্ন অযোগ্য কোম্পানির আর্থিক হিসাবকে কৃত্রিমভাবে সাজিয়ে শেয়ারবাজারে আনে। এর বিনিময়ে কোম্পানি থেকে শেয়ার নেয়। শুধু যে তারাই নেয়, এমনও না। কোম্পানির উদ্যোক্তা/পরিচালকেরাও নেয়। যার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে বিগত শিবলী কমিশন। তবে এখন সময় এসেছে সেসব অনিয়মের বিচার করা। এজন্য মতিউর চক্রের শেয়ার নেওয়া সব কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করা অতি জরুরী।

এসোসিয়েটেড অক্সিজেনকে শেয়ারবাজারে আনা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওয়ার জন্য আইপিওতে আবেদন দাখিলের আগে অস্বাভাবিকভাবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হয়। কোম্পানিটির ওই সময় মাত্র সাড়ে ১০ মাসের ব্যবধানে (২০ ডিসেম্বর ২০১৭-৬ নভেম্বর ২০১৮) ১২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ কোটি টাকা করা হয়।

প্রসপেক্টাসের ১৯ পৃষ্টা অনুযায়ি, ৮০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রায় পুরোটাই বা ৯৯.৮৫ শতাংশ শেয়ারবাজারে আসার আগে সাড়ে ১০ মাসে ইস্যু করে এসোসিয়েটেড অক্সিজেন। ওইসময় পরিচালকেরা নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে অনেক প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করে। এরপরে আইপিওতে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

ওই অস্বাভাবিক মূলধন বৃদ্ধির মধ্যে প্লেসমেন্ট হোল্ডার মো. মতিউর রহমান ৫ লাখ, মতিউরের স্ত্রী লায়লা কানিজ ৪.৫০ লাখ, মতিউরের ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণব ৫ লাখ, জাভেদ এ মতিন ২ লাখ, বেঙ্গল অ্যাসেটস হোল্ডিংস লিমিটেড ৩৫৮৪৫০০টি, এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ৬৫৯৬৬৯টি ও আঞ্জোমান আরা বেগম ২ লাখ শেয়ার নেয়। এছাড়া মতিউরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্লোবাল সুজ ২৭৪৫৫০০টি ও গ্লোবাল ম্যাক্স প্যাকেজিং ২ লাখ, শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ৬৫.৫১ লাখ প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়। এক্ষেত্রে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৯টি শেয়ার নেয়।

এরা একমি পেস্টিসাইডস থেকেও প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়। যার বিপরীতে কোন টাকা দেয়নি বলে বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বিডি ক্যাপিটালের তৎকালীন সিইও বরুণ প্রসাদ পাল বলেন, ওরা (এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের সাইফুর রহমানরা) প্লেসমেন্ট নিয়ে কাজ করে। ওরা আসলেই দুষ্টু। এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের টোটাল প্লেসমেন্টের দূর্ঘটনা আমাদের কাছে আসার ২ বছর আগেই ঘটে যায়। শুধু আমাদের নামটা দিয়ে ফাইলটা জমা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একটা ইস্যু ব্যবস্থাপনায় একটা মার্চেন্ট ব্যাংক লাগে। আমরা শুধু এসোসিয়েটেড অক্সিজেনে এই নামটাই দিয়েছি। আর কোন কিছুই করিনি। আর প্লেসমেন্ট ইস্যু নিয়ে যে কথা বলছেন, সেটা আমরা চোখেও দেখি নাই।

শুধু নাম দেওয়ার দোহাই দিয়ে এসোসিয়েটেড অক্সিজেনে অনিয়মের জন্য ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায় এড়াতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পর্ষদের কারনে সাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। আমি যেহেতু তাদের চাকরী করি, তাই সাক্ষর করতে বাধ্য। অন্যথায় চাকরী থাকতো না।

একমি পেস্টিসাইডসের ন্যায় প্রি-আইপিও-কালিন এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আর্থিক হিসাবেও নিরীক্ষার কাজ করে সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং। যে নিরীক্ষক একমি পেস্টিসাইডসের আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির বাস্তব আর্থিক অবস্থা সন্নিবেশিত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএসইসি। একইভাবে এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আর্থিক হিসাবেও নিরীক্ষক সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেনি। যে কারনে আইপিওর আগে টানা মুনাফা বাড়তে থাকা কোম্পানিটি এখন উৎপাদন বন্ধের অবস্থায় চলে গেছে।

প্রসপেক্টাসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ি, কোম্পানিটির ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মুনাফা টানা বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয় ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এমন কোম্পানির গত ২ বছর ধরে আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। যে কোম্পানিটির পর্ষদ সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

ডিএসইর তদন্তে এ কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের তথ্য বেরিয়ে আসে। তারপরও ২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে বড় অঙ্কের কৃত্রিম বা শেয়ারপ্রতি ১.৫৯ টাকা করে ১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার কৃত্রিম নিট মুনাফা দেখায় এসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেড। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

জানা যায়, পণ্য কেনার কথা বলে এসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তারা। এ সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েক মাস ধরে তাদের কারখানা বন্ধ রয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে জানালে সংস্থাটি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

এসব বিষয়ে জানতে এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের কাজী সাইফুর রহমান, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন, এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের সিএফও দেলোয়ার হোসাইন ও কোম্পানি সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমানকে ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি। এছাড়া কাজী সাইফুর রহমান ও মনোয়ার হোসেনকে হোয়াটসঅ্যাপে এবং এসোসিয়েটেড অক্সিজেনের ঠিকানায় মেইল করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে