ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ব্যয়ের তথ্য আড়াল করে ন্যাশনাল ফিডের কৃত্রিম মুনাফা

২০২৬ মার্চ ১২ ০৯:৩০:৪৭
ব্যয়ের তথ্য আড়াল করে ন্যাশনাল ফিডের কৃত্রিম মুনাফা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ফিড মিল কোম্পানির শেয়ারবাজারে যাত্রার শুরুর পর থেকে ব্যবসায় দূর্বল হতে থাকে। তবে এই দূর্বলতা আগেও ছিল। তারা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পূর্ব কৃত্রিম আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়েছিল। যে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে প্রকৃত ব্যয় না দেখিয়ে কৃত্রিম মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। যা সিকিউরিটিজ আইনে ভয়াবহ জালিয়াতি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ন্যাশনাল ফিড কর্তৃপক্ষ উৎপাদন খরচ ও সুদজনিত ব্যয় কমিয়ে দেখানোর মাধ্যমে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে। এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ইনকাম স্টেটমেন্টে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার উৎপাদন খরচ ও ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সুদজনিত ব্যয় কম দেখিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা ৪ কোটি ২২ লাখ টাকার ব্যয় কমিয়ে দেখিয়েছে। যা শেয়ারপ্রতি হিসেবে ০.৪৫ টাকা করে ব্যয় কম দেখানো হয়েছে। এই ব্যয় কমিয়ে তারা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখিয়েছে ০.০৩ টাকা। অথচ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.৪২ টাকা করে।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, আর্থিক হিসাবে বিক্রীত পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ে কাঁচামাল ক্রয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। কিন্তু ভ্যাট রিটার্ন মুশক ৯.০১ অনুসারে এই ক্রয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ইনকাম স্টেটমেন্টে ক্রয়ের পরিমাণ ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা টাকা কম উল্লেখ করার মাধ্যমে ব্যয় কমিয়ে দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে ওই অর্থবছরের নিট মুনাফাও বাড়িয়ে দেখিয়েছে। যা কোম্পানির ইপিএসের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন.....

ন্যাশনাল ফিড থেকে অর্থ পাঁচার

কাঁচামালের ব্যয় ছাড়াও সুদজনিত ব্যয় কমিয়ে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে ন্যাশনাল ফিড কর্তৃপক্ষ। তারা আর্থিক হিসাবের নোট নং ১৩.০০-তে ব্যালেন্স শীটে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুদ ও চার্জের পরিমাণ ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা দেখিয়েছে। কিন্তু ইনকাম স্টেটমেন্টে ব্যয় হিসাবে দেখিয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অতএব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ইনকাম স্টেটমেন্টে ব্যয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কম দেখিয়েছে এবং মুনাফাকে অতিরঞ্জিত করে দেখিয়েছে। যা ইপিএসের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

এর বাহিরে বাকিতে বিক্রিবাবদ অনেক টাকা আদায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে কোম্পানির লোকসান হয়েছে। যা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ হিসাব মান অনুযায়ি আদায় অযোগ্য অর্থ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হিসাব থেকে বাদ দেয়নি এবং কোন সঞ্চিতি গঠন করেনি। এর মাধ্যমে ব্যয় কমিয়ে দেখিয়েছে। যা কোম্পানির কৃত্রিম মুনাফা ও ইপিএসে প্রভাব ফেলেছে।

এসব বিষয়ে জানতে ন্যাশনাল ফিডের সচিব জাহিদুল ইসলামকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া মেইল করেও কোন প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ফিডের ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ৬৯.৬০ শতাংশ। কোম্পানিটির মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শেয়ার দর রয়েছে ১৪.৬০ টাকায়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে