ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

রেমিট্যান্সে নতুন মাইলফলক

২০২৬ জুলাই ০২ ০৯:৪০:৫২
রেমিট্যান্সে নতুন মাইলফলক

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন ইতিহাস গড়ে শেষ হয়েছে ২০২৫–২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত এই অর্থবছরে দেশে বৈধ চ্যানেলে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ১২ মাসে দেশে এসেছে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি।

এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার বিস্তৃতি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করছেন। এর ফলেই রেমিট্যান্সে এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগের বছরের জুনের তুলনাতেও এ অঙ্ক কিছুটা কম। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে যুক্ত না হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, যখন প্রবাসী আয় ছিল ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুনে স্বাভাবিকভাবেই রেমিট্যান্সে কিছুটা নিম্নগতি দেখা গেছে।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবণতায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন