ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

সেই অপসারিত মাহতাবের বিএসইসি চেয়ারম্যান হওয়ার পায়তারা

২০২৬ এপ্রিল ২০ ০৮:৪৯:০০
সেই অপসারিত মাহতাবের বিএসইসি চেয়ারম্যান হওয়ার পায়তারা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : অনেক ভালো কোম্পানি হিসেবে প্রচার করে রবি আজিয়াটাকে শেয়ারবাজারে আনেন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। যিনি তালিকাভুক্তির কিছুদিন পর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেন। একইসঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক কেলেঙ্কারী ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া তার পদত্যাগ পরবর্তী সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে না মর্মে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেন। যদিও কোম্পানির দাবি তাকে অপসারণ করা হয়েছে। যিনি প্রতিষ্ঠানটিতে অনেক উচ্চ বেতনে চাকরী করেছেন। সেই মাহতাব এখন নামমাত্র বেতনে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য পায়তারা করছেন।

কথায় আছে পাগলেও বুঝে টাকার গুরুত্ব। কিন্তু উচ্চ বেতনে চাকরী করা মাহতাব মাত্র দেড় লাখ টাকার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) যাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এটাকে স্বাভাবিক মনে করছেন না অনেকেই।

এ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, মাহতাব রবিতে অনেক বড় পদে ছিলেন সত্য। তবে সম্মান বিবেচনায় বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ আরও বড়। এখন বিনিয়োগকারীরা সম্মান করুক বা না করুক, সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে চেয়ারম্যানদের বিদায় বেলা ভালো হয় না। কমিশনে দায়িত্বে থাকাকালীন চেয়ারম্যানকে সামনা-সামনি প্রশংসা করলেও আড়ালে তা করে না। তারপরেও কেউ যদি অনেক উচ্চ বেতনের চাকরি করে কম সুবিধায় যেতে চায়, সেটার কারন সেই বলতে পারবে। তবে সেটা হয়তো প্রকাশ্যে বলা যায় না।

এই মাহতাব দীর্ঘসময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। যিনি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২২৭ কোটি টাকা চেয়ে মামলা করেন। এই টাকা তিনি চেয়েছেন ‘অবসর–সুবিধা ও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি’র ক্ষতিপূরণ বাবদ।

এ থেকেই বোঝা যায় মাহতাব কত উচ্চ বেতনে চাকরী করেছেন। সেই ব্যক্তি যদি দেড় লাখ টাকার চাকরীর জন্য বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ায়, সেটা নিশ্চয় ভালো উদ্দেশ্যে না। তিনি কোন অসৎ উদ্দেশ্যে বিএসইসিতে আসতে চান বলে মনে করেন এ খাতের একটি অংশ।

এছাড়া এই মাহতাব জেনে শুনেই আর্থিক কেলেঙ্কারীর একটি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে এনেছেন। যা তিনি কোম্পানির পর্ষদের কাছে গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ কারনে রবি আজিয়াটা মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়।

মাহতাব ২০২২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রবির বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে রবি আজিয়াটা ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিইও ইজাদ্দিন ইদ্রিস, বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান থায়াপরান এস সাঙ্গারা পিল্লাইসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

২০১০ সালে মাহতাব উদ্দিন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) পদে রবিতে যোগ দেন। ২০১৬ সালে হন সিইও। পরে ২০২১ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

ওইসময় মামলার বিষয়ে মাহতাব উদ্দিনের আইনজীবী হাসান এম এস আজিম এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মাহতাব উদ্দিন ২০২১ সালের ২ আগস্ট পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা একই বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। রবির পরিচালনা পর্ষদ সে বছরের ৫ আগস্ট শর্তহীনভাবে সে পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা এক চিঠিতে তাঁকে জানায়। তবে ২০২২ সালের ২২ মে রবি আজিয়াটা গ্রুপ মাহতাব উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার নোটিশ দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হঠাৎ করে রবি মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। এই লেনদেন সম্পর্কে আজিয়াটা গ্রুপ ও রবির বোর্ড অবগত ছিল।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পদত্যাগের পর তারা কীভাবে আমাকে চাকরিচ্যুত করে? মূলত আমার বেতন নিয়ে তাদের সমস্যা ছিল।’ তিনি বলেন, যে লেনদেনের বিষয়ে তারা বলছে, সেটি নিয়ে আর্থিক বিবরণীতে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। একটি স্বনামখ্যাত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর্থিক বিবরণীটি নিরীক্ষা করা হয়েছিল।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমি আসলে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার। মূলত আমার বেতন নিয়ে তাদের সমস্যা ছিল।’ তিনি দাবি করেন, রবির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তিনি অনেক আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন। আর্থিক যে লেনদেনের বিষয়টি রবি আজিয়াটা তুলেছে, সেটা তারা প্রমাণ করতে পারবে না।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন