ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, আল-মদিনা ফার্মার শেয়ার তদন্তের নির্দেশ

২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:৪৭:০৪
অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, আল-মদিনা ফার্মার শেয়ার তদন্তের নির্দেশ

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শেয়ারের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিক উত্থানের কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই গত প্রায় পাঁচ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৮৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারটির দাম ছিল ৩৫ দশমিক ৯০ টাকা, যা ৫ জুলাই বেড়ে ১০২ দশমিক ৫০ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ৬৬ দশমিক ৬০ টাকা।

এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে গত ৫ জুলাই কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই। জবাবে কোম্পানিটি জানায়, শেয়ারের এমন মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, "কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। তাই প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কোনো সমন্বিত কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং অথবা অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস এবং কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।

বিশেষভাবে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড এবং ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের কোনো ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা করবে।

বিএসইসির মতে, সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে সহায়তা করা বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১১ এবং তফসিল-২-এর ধারা ৩৫-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারটির এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে একটি প্রভাবশালী কারসাজি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে উচ্চমূল্যে শেয়ার বিক্রি করে অনৈতিক মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাই বিএসইসি ও ডিএসইর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ২০২৩ সালে এসএমই প্ল্যাটফর্মে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফলে মোট শেয়ারের সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। সর্বশেষ ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৫৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন