ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ার কারসাজি

রহিমা ফুডে একই ব্যক্তি ক্রেতা-বিক্রেতা

২০২৬ আগস্ট ০৩ ০৮:৫১:৪৩
রহিমা ফুডে একই ব্যক্তি ক্রেতা-বিক্রেতা

অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে এক বিনিয়োগকারীর একাধিক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কৌশলী লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তে দেখা গেছে, মাত্র আড়াই মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪৫ শতাংশ বাড়াতে একই ব্যক্তি নিজের নিয়ন্ত্রিত একাধিক অ্যাকাউন্টে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় ভূমিকায় লেনদেন করেছেন। এতে শেয়ার হাতবদল হলেও প্রকৃত মালিকানার কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা সিকিউরিটিজ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিএসইসির নির্দেশনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্ত দল ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে। তদন্তে দেখা যায়, এ সময়ে শেয়ারটির দাম ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়। অর্থাৎ মাত্র আড়াই মাসে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পায় ১০০ টাকা বা ১৪৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ, শেলটেক ব্রোকারেজ এবং আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজে খোলা তিনটি বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাপক লেনদেন করেন। তদন্তে তার নাম ‘মো. দেলোয়ার হোসেন’ এবং ‘ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন’—উভয়ভাবেই পাওয়া গেছে। তিনি ওই সময়ে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৩টি শেয়ার ক্রয় এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৩টি শেয়ার বিক্রি করেন। মোট লেনদেনের প্রায় ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন শেয়ারটির সর্বোচ্চ ক্রেতা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রেতা।

তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রিত দুটি বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে হাওলা লেনদেনের মাধ্যমে ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার স্থানান্তর করেন। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ১৩৪ টাকা। এ লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ই ছিলেন তিনি নিজেই। ফলে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানায় কোনো পরিবর্তন না হলেও বাজারে কৃত্রিম লেনদেনের চিত্র তৈরি হয়। বিএসইসির মতে, এ ধরনের লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ১৭(ই)(৩)-এর লঙ্ঘন।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, শীর্ষ লেনদেনকারীদের মধ্যে আব্দুল মোবিন, আব্দুল হাফিজ জোয়ারদার তুহিন, তাসনিয়া তাহসিন, কৃষ্ণ দাস, বিজন পাল, ইমরানী, নাজমুল হোসেন, আলমগীর কবীর, সত্যজিত মজুমদার এবং এ কে এম গোলাম বোহলুল সক্রিয় ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসাজশ বা সম্পর্কের প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, একই ব্যক্তি একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজের মধ্যেই শেয়ার কেনাবেচা করলে তা বাজারে কৃত্রিম চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা বাজার কারসাজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তাই রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেন নিয়ে বিএসইসির এই তদন্ত এবং পরবর্তী এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন