ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক : ৩০ বছরের পুরোনো বিধিমালা বদলানোর উদ্যোগ

২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:১৬:৪২
নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক : ৩০ বছরের পুরোনো বিধিমালা বদলানোর উদ্যোগ

প্রায় তিন দশকের পুরোনো বিধিমালা যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের লাইসেন্সিং, যোগ্যতা-অযোগ্যতা, কার্যক্রমের পরিধি এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি বা বিশ্বস্ততার দায়িত্ব স্পষ্ট করতে ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬’ হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বিধিমালাটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব দিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। সম্প্রতি কমিশনের আইন বিভাগের সিএমআরআরসি ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, ‘১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি অনেক পুরোনো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব আপডেট প্রয়োজন, সেগুলো করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্চেন্ট ব্যাংকারের লাইসেন্সিংয়ের শর্ত, কার্যক্রম এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়গুলো কী হওয়া উচিত, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি ডিউটি বিবেচনায় নিয়েই বিধিমালা হালনাগাদ করা হবে।

৩০ কার্যদিবসে প্রতিবেদন

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালা হালনাগাদে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মো. মাহমুদুল হককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা এবং সহকারী পরিচালক মেহরান আলী। শেষের জনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবসহ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্পষ্ট হবে লাইসেন্সের শর্ত

নতুন কাঠামোয় মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা-অযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সক্ষমতার মানদণ্ড আরও স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কার্যক্রমের পরিধি এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। গ্রাহকের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বার্থের সংঘাত, তথ্যের গোপনীয়তা, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহির কাঠামোও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি ইস্যু ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি করপোরেট বন্ড, সুকুক, এসএমই তালিকাভুক্তি ও বিভিন্ন কাঠামোবদ্ধ আর্থিক পণ্যে কোন শ্রেণির মার্চেন্ট ব্যাংকার কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে, সেটিও নির্দিষ্ট করা হতে পারে।

এতে প্রতিষ্ঠানভেদে সক্ষমতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রমের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে। সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগাম নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার পথও তৈরি হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, পেশাগত মান ও বাজারে শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কেন পুরোনো বিধিমালা বদল

১৯৯৬ সালে প্রণীত বিধিমালাটি মূলত সে সময়ের শেয়ারবাজারের কাঠামোকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছিল। এরপর দেশের পুঁজিবাজারের আকার, বিনিয়োগের ধরন, আর্থিক পণ্যের বৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিধিমালায় সংশোধন আনা হলেও বিএসইসির ওয়েবসাইটে থাকা সর্বশেষ সংস্করণটি ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছিল।

বর্তমান বাজার বাস্তবতা, নতুন আর্থিক পণ্য এবং পরিবর্তিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্চেন্ট ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রয়োজন বলে মনে করছে বিএসইসি।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্সিং ও কার্যক্রমের সীমা স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর অর্থ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে নতুন আর্থিক পণ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার পথও আরও সুগম হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন