ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মূলধন ঘাটতি কাটাতে সময় চায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো

২০২৬ আগস্ট ২৩ ০৮:৩১:২৮
মূলধন ঘাটতি কাটাতে সময় চায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কারণে ব্যবসা ও আয় কমে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে দেশের বেশ কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), বন্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ইস্যুর কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থবির থাকায় ফি-ভিত্তিক আয় কমেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। একই সময়ে জনবল, প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রক পরিপালন ও পরিচালন ব্যয় অব্যাহত থাকায় কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট সম্পদ নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দিয়েছে বিএমবিএ। সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি সংকটে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ নির্ধারিত সীমার নিচে নেমেছে, তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময় ও মাইলস্টোনভিত্তিক মূলধন পুনরুদ্ধার কাঠামো চালু করা যেতে পারে।

বিএমবিএর সাধারণ সম্পাদক ও এমটিবি ক্যাপিটালের সিইও সুমিত পোদ্দার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নতুন আইপিও ও বন্ডের অনুমোদন না থাকায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ফি-ভিত্তিক আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারের আনরিয়ালাইজড লোকসানের বিপরীতে বিএসইসির কাছে বিশেষ সুবিধা বা সময় চাইলেও পোর্টফোলিও ব্যবসা না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সুবিধা নিতে পারেনি। এ অবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অনুরোধে নীতিগত সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

বিদ্যমান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার অ্যান্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজার) রুলস, ১৯৯৬ অনুযায়ী, মার্চেন্ট ব্যাংককে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নিট সম্পদ হিসেবে রাখতে হয়। বিএমবিএর মতে, করোনা-পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ও দুর্বল বাজার কার্যক্রমের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের মূলধন ক্ষয় হয়েছে।

নতুন আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ইস্যু প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকায় আন্ডাররাইটিং, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, পরামর্শকসহ বিভিন্ন সেবা থেকে আয় কমেছে। বিপরীতে কমপ্লায়েন্স, প্রযুক্তি ও পেশাগত ব্যয় অব্যাহত থাকায় পরিচালন লোকসানের মাধ্যমে মূলধন ক্ষয় হয়েছে।

এ অবস্থায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিট সম্পদ সংরক্ষণের শর্ত পূরণে যৌক্তিক সময় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএমবিএ। তবে এ সুবিধা শর্তহীনভাবে দেওয়ার পক্ষে নয় সংগঠনটি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পর্ষদ অনুমোদিত মূলধন ও ব্যবসা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। ওই পরিকল্পনায় পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা থাকবে এবং বিএসইসিকে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে।

বিএমবিএ আরও বলেছে, সব মার্চেন্ট ব্যাংককে একইভাবে বিবেচনা না করে প্রতিষ্ঠানভেদে বর্তমান মূলধন পরিস্থিতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, চলমান আবেদন, বাস্তবায়নযোগ্য ম্যান্ডেট ও অতীত রেকর্ড মূল্যায়ন করা উচিত। সক্রিয় ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

এ ছাড়া মূলধন ঘাটতির কারণে ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, ঋণব্যবস্থা, এসএমই তালিকাভুক্তি ও পরামর্শক সেবার মতো আয়-উৎপাদনকারী কার্যক্রম সীমিত না করার অনুরোধ জানিয়েছে বিএমবিএ। সংগঠনটির মতে, এসব কার্যক্রম চালু রাখার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলো আয় বাড়িয়ে মূলধন পুনর্গঠন করতে পারবে। এর পরিবর্তে সুরক্ষা ব্যবস্থা ও লেনদেনভিত্তিক নজরদারি আরও জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠ

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন