ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

অনুমোদনের আগেই পরামর্শক নিয়োগ, মেট্রোরেল লাইন-৫ নিয়ে প্রশ্ন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ০৯:৩২:১৮
অনুমোদনের আগেই পরামর্শক নিয়োগ, মেট্রোরেল লাইন-৫ নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) প্রকল্পের অনুমোদনের আগেই কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সুপারভিশন পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এর মধ্যেই প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের চাপে কয়েক দফায় ব্যয় কমানো হলেও পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার বলেন, পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই এ পর্যায়ে দুর্নীতি হয়েছে—এ কথা বলা যাচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত একনেক নেবে।

৯ মাস এগিয়ে থাকার দাবি

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া আগে থেকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব এর আগে জানিয়েছিলেন, অনুমোদনের পর পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রায় ৯ মাস পিছিয়ে যেত। তাই সময় বাঁচাতেই নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো উদ্দেশ্য নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই পরামর্শক নিয়োগের এ উদ্যোগে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী মীর সাব্বির হোসেন গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী আমলা, রাজনীতিক ও ভারতীয় এজেন্টদের যোগসাজশে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ছয় প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায়

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সুপারভিশন পরামর্শক নিয়োগে আগ্রহপত্র (ইওআই) আহ্বান করা হয়। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়। পরে প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়। প্রস্তাব জমার শেষ সময় ছিল ৩১ আগস্ট।

প্রকল্প অনুমোদনের আগেই এই নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন অভিযোগকারী।

কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে প্রথম দফায় ৬ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা কমিয়ে ব্যয় ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা করা হয়। সর্বশেষ আরও ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা কমিয়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া ঋণ দেবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি ১৭.৪ কিলোমিটার

মেট্রোরেল লাইন-৫-এর আওতায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এর পথে থাকবে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর ও নাসিরাবাদ। উড়াল ও পাতাল—দুই ধরনের অবকাঠামোর মাধ্যমে রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় হবে মেইন লাইন, স্টেশন ও ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণে—১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ও রেলওয়ে ব্যবস্থায় ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জামে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৩ লাখ এবং পরামর্শক খাতে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ, পুনঃঅধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৩০ কোটি ৯৮ লাখ এবং যানবাহন ভাড়ায় ৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন