ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

১০-২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণাকারী পরিচালকদের শাস্তি চায় বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:৩০:১২
১০-২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণাকারী পরিচালকদের শাস্তি চায় বিনিয়োগকারীরা

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : কোন কোম্পানীর শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস), শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ (নএভিপিএস), পরিচালন নগদ প্রবাহ ইতিবাচত থাকার পরও ‘নো, ডিভিডেন্ড, বা ১০-২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করলে, ঐ কোম্পানীকে 'জেড' গ্রুপে না পাঠিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঐ কোম্পানীর সকল পরিচালকদের শেয়ার ‘ফ্রিজ' করার দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে পুরো বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন বোর্ড পুনর্গঠন করে দিলে অন্যান্য কোম্পানী এই ধরণের আর্থিক কেলেঙ্গারী করার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস করবে না বলে দাবি তাদের।

সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদুল হক, সহ-সভাপতি সরফরাজ হোসেন, সহ-সভাপতি আজাদ আহসান বাচ্চু, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

মানববন্ধনে বিনিয়োগকারীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ১০টি প্রস্তাবনা ও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এরমধ্যে রয়েছে-

১. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিনিয়োগকারী সংগঠনের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করে বিনিয়োগকারীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সময়োপযোগী যুগান্তকারী প্রস্তাবনা থাকতে হবে। দলগুলোর ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে,পুঁজিবাজারে এবং ইন্সুরেন্স সেক্টরে কি কি Reform করবে, কি কি বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ রাখবে, তা পরিস্কার করতে হবে।

২. পুঁজিবাজারে দৈনিক শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে একই শেয়ার দিয়ে নিটিং সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই নিয়ম ইতিপূর্বে ২০০৭ সালে বাজারে ইতিবাচকভাবে প্রচলিত ছিল। এতে বাজারে প্রতিটি কোম্পানীর শেয়ারের একটি শক্তিশালী ও টেকসই মূল্যস্তর বজায় থাকবে। এই নিয়মটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজদের অনৈতিক কমিশন প্রাপ্তির লোভের কারণে পুঁজিবাজারে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

৩. বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও প্রটোকল সমান সমান করতে হবে। এতে দেশের পুরো আর্থিক খাত এবং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের অযাচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুরুব্বিয়ানা দূর হয়ে সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।

৪. ৫টি ব্যাংক মার্জারের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই ৫টি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ফেসভ্যালু ১০ টাকা প্রদান করতে হবে অথবা নতুন সম্মিলিত ব্যাংকের সমপরিমাণ শেয়ার প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারকে প্রদান করতে হবে। এছাড়াও বর্তমান সরকারের দুই মাস মেয়াদে ৯ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নতুন নির্বাচিত সরকার ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর পর মার্জার ও অবসায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আগামী দুই মাস বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কেবলমাত্র তার রুটিন ওয়ার্ক সম্পাদন করতে পারবেন।

৫. আগামী ৩ মাসের মধ্যে "পদ্মা বহুমুখী সেতু” পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সেতু বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোর বিন্দুমাত্র শৈথিল্যতা বরদাশত করা হবে না। এছাড়া Nestle Bangladesh, ইউনিলিভারসহ অন্যান্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী, মেটলাইফ, Opsonin, SKF (ঔষধকোম্পানী), Nasir Flote Glass, PHP Glass Factory, সরকারি লাভজনক স্বায়ত্তশাসিত কোম্পানী, দেশের অন্যান্য লাভজনক কোম্পানী বাজারে অবিলম্বে তালিকাভুক্ত করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী গুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাহীরে থাকতে পারে না।

৬. কোনো কোম্পানী ৫০ কোটি টাকা Capital Raise করতে হলে, কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে না। তাকে Automatically পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে Capital Raise করতে হবে। এতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং পুঁজিবাজারে ভাল ভাল কোম্পানী তালিকাভুক্ত হয়ে বাজারকে টেকসই ও গতিশীল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

৭. কোন কোম্পানীর EPS, NAV, Net Operating Cash Flow Positive থাকার পরও “No Dividend” বা ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করলে, ঐ কোম্পানীকে 'Z' গ্রুপে না পাঠিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঐ কোম্পানীর সকল পরিচালকদের শেয়ার ‘ফ্রিজ' করে দিয়ে পুরো বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন বোর্ড পুনর্গঠন করে দিলে অন্যান্য কোম্পানী এই ধরণের আর্থিক কেলেঙ্গারী করার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস করবে না।

৮. বিএসইসির কাজের স্বচ্ছতা, আইপিও অনুমোদনের স্বচ্ছতা এবং বাজারে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য একটি শক্তিশালী অ্যাডভাইজরী কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের দুইজন, হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন আইনজীবী, অডিট ফার্ম থেকে দুইজন, লিস্টেট কোম্পানী অ্যাসোসিয়েশন থেকে দুইজন, বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ থেকে দুইজন ও দুইটি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে দুইজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ।

৯. বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামোর পলিসি তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে উল্লেখ করার মত যোগ্য একজনও দায়িত্বে আশে নাই। যিনি দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিস্থাপন করবেন। আগামী দিনগুলোতে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি মেধাভিত্তিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে (নির্বাচন কমিশনের আদলে) বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

১০. বিএসইসি “বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল” থেকে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যেসব বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে, তাদের ঐ তহবিল থেকে নতুন ফান্ড বরাদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে