ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

উৎপাদন বন্ধ কোম্পানির জন্য নতুন ক্যাটাগরির সুপারিশ

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:৩৯:৩৩
উৎপাদন বন্ধ কোম্পানির জন্য নতুন ক্যাটাগরির সুপারিশ

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং কয়েক বছর ধরে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়া কোম্পানিগুলোকে মূল বোর্ড থেকে সরিয়ে একটি পৃথক প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি। এরমধ্যে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিকে নিয়ে মূলত এই নতুন প্ল্যাটফর্মটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘আর’ ক্যাটাগরি। কারন একটি কোম্পানি উৎপাদনে এবং মুনাফায় থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য কখনো কখনো লভ্যাংশ নাও দিতে পারে। যে কাজটি লাফার্জহোলসিম শুরুতে কয়েক বছর করেছিল। তবে উৎপাদনে না থাকা কোম্পানির ভবিষ্যত খুবই ঝুঁকিতে, তাই এ কোম্পানিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘আর’ ক্যাটাগরির সুপারিশ করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কমিটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার জন্য সুপারিশ করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ‘আর’ ক্যাটাগরিভুক্ত শেয়ারগুলোর লেনদেনে অত্যন্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এই ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার পর অন্তত এক মাস তা বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া সাধারণ শেয়ারের ক্ষেত্রে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় দুই থেকে তিন দিন হলেও ‘আর’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে এই সময় বাড়িয়ে সাত দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের এই কমিটি গত নভেম্বরে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ফান্ড এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার আরেকটি তহবিল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ৬০ শতাংশে উন্নীত করা এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ডিএসইতে ৩৯৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২০৫টি ‘এ’, ৮২টি ‘বি’ এবং ১১০টি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। কমিটি মনে করছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা অনেক কোম্পানি বছরের পর বছর বন্ধ থাকলেও মাঝেমধ্যে এগুলোর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। উদাহরণ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত জিল বাংলা সুগার মিলসের কথা বলা হয়েছে, যার শেয়ারদর মাত্র কয়েক দিনে ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৫ টাকায় উঠেছিল। এ ধরনের অযৌক্তিক উত্থান ঠেকাতেই ‘আর’ ক্যাটাগরি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, বর্তমানে অন্তত ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বেশি। মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ ২০০২ সাল থেকে অর্থাৎ দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, অনেক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের ভবিষ্যতে ব্যবসা সচল করার কোনো সম্ভাবনা নেই। এসব কোম্পানির জন্য একটি সম্মানজনক ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা বাজার থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ তৈরির পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে