ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ডিএসইতে টানা ৩ কার্যদিবস পতন

২০২৬ মে ০৭ ১৪:৩৩:২০
ডিএসইতে টানা ৩ কার্যদিবস পতন

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : এখনো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনকে অপসারণ না করায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অর্থমন্ত্রী বিদেশে অবস্থান করায় তাকে অপসারণ এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ আটকে আছে। উনি আজ (০৭ মে) দেশে ফেরার পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন শেয়ারবাজারের খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাকে সরানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এলক্ষ্যে বিএসইসিতে চেয়ারম্যান নিয়োগে বয়স সীমা তুলে নিয়েছে।

বয়সের সীমা তুলে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ সংশোধন করা হয়েছে।

গত ১৯ মাস ধরে শেয়ারবাজারের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সংস্কার করছে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে তারা যতই সংস্কার করছে, ততই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে করে বর্তমান কমিশনের সংস্কার এরইমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপসংস্কার হিসেবে ধরা দিয়েছে। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকে বিভিন্ন জনকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

শেয়ারবাজারের স্বার্থে বিনিয়োগকারীরা অনেক আগে থেকেই মাকসুদের অপসারণ চান। যার অপসারণেই শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস বিনিয়োগকারীদের। কারন মাকসুদ শেয়ারবাজার বুঝেন না। এটা শুধু সাধারন বিনিয়োগকারীদের কথা না। এই কথা এখন বিএসইসির সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যানসহ স্টেকহোল্ডারদের। তাই মাকসুদের অপসারন করা উচিত।

তবে তার অপসারণ এক প্রকার চূড়ান্ত হয়ে গেলেও এখনো তা বাস্তবায়ন না হওয়া বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছে। যাতে আগের ২ দিনের ন্যায় বৃহস্পতিবারও (০৭ মে) দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫২৩৪ পয়েন্টে। যা আগের দুই কার্যদিবসের পতনের মধ্যে বুধবার ১৯ পয়েন্ট ও মঙ্গলবার ১১ পয়েন্ট কমেছিল।

এদিন ডিএসইতে ৮৪৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যার পরিমাণ আগের দিন হয়েছিল ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৭৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার বা ১০ শতাংশ।

আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৭ টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১২৭ টি বা ৩১.৯৯ শতাংশের। আর দর কমেছে ১৯৮ টি বা ৪৯.৮৭ শতাংশের ও দর পরিবর্তন হয়নি ৭২ টি বা ১৮.১৪ শতাংশের।

অপরদিকে সিএসইতে বৃহস্পতিবার ১৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৯ টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৮০ টির, কমেছে ১০৫ টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৪ টির। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭০৩ পয়েন্টে।

আগেরদিন সিএসইতে ২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। আর সূচক কমেছিল ১৪ পয়েন্ট।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে