ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

তিতাসে দুই কূপ খননে ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ০৯:২৬:১৪
তিতাসে দুই কূপ খননে ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা

দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামের কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দুটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন গ্যাস কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি আজ রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আওতায় তিতাসের কূপ দুটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আপত্তির মুখে কমেছে ব্যয়

প্রকল্পটির ব্যয় প্রস্তাবে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরামর্শকসহ ১৫টি খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে এবং ৯টি খাত পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা কমেছে।

প্রস্তাবে পরামর্শক খাতে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা কমিয়ে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিদেশি ও স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ব্যয় কমানোর তালিকায় রয়েছে আপ্যায়ন, গাড়ি ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংক চার্জ, কম্পিউটার সামগ্রী, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি কেনার মতো খাত। গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামো ও সরঞ্জাম খাতেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি বীমা, টেলিফোন বিল, যাতায়াত ও গুদাম সংস্কারসহ কয়েকটি খাতের বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।

১০ বছরে গ্যাস বিক্রির সম্ভাব্য মূল্য ৬ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কোম্পানির হিসাবে, এ সময়ে গ্যাস ও কনডেনসেট বিক্রি থেকে মোট আয় হতে পারে প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ের দরে হিসাব করলে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। তবে উৎপাদন, বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ের সম্ভাব্য মূল্যকে প্রকল্প থেকে কোম্পানির সরাসরি আয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার বলেন, দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কূপ খনন এবং দেশীয় গ্যাস কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন করতে চায় সরকার।

প্রকল্পটি অনুমোদন ও সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বাড়তি অবদান রাখার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কূপ দুটি থেকে প্রত্যাশিত গ্যাস পাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা—দুটিই এর সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন