ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মেয়াদি মিউচুয়াল নিয়ে ফান্ড বিএসইসির নতুন বিধিমালা

২০২৬ জুন ০৪ ০৮:৩৪:৪১
মেয়াদি মিউচুয়াল নিয়ে ফান্ড বিএসইসির নতুন বিধিমালা

এখন থেকে কোনো মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ আর বাড়ানো যাবে না। মেয়াদ শেষে ফান্ডটি ওপেন-এন্ডেডে রূপান্তর হবে নাকি অবসায়নের (লিকুইডেশন) মাধ্যমে বন্ধ করা হবে—সে সিদ্ধান্ত নেবেন ইউনিটধারীরাই। এ লক্ষ্যে ইউনিটধারীদের বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান ও ভোটগ্রহণের বিস্তারিত প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেটের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বুধবার (৩ জুন) জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নতুন বিধিমালা কার্যকরের ফলে ২০১৫ সালের আগের সব নির্দেশনা বাতিল হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে ওপেন-এন্ডেড ফান্ডে রূপান্তরকে ফান্ডের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনি বিধান অনুসরণ করতে হবে।

রূপান্তর প্রস্তাব ও ইউনিটধারীদের ভূমিকা -

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাসেট ম্যানেজার স্বেচ্ছায় ফান্ড রূপান্তরের প্রস্তাব দিলে তা সংশ্লিষ্ট অ্যাসেট ম্যানেজার ও ট্রাস্টির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাস্টিকে নিশ্চিত করতে হবে, প্রস্তাবটি ইউনিটধারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে। এ ধরনের প্রস্তাব ফান্ডের মেয়াদপূর্তির অন্তত ১৫০ দিন আগে উত্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া বিধিমালার ৬২(২) ধারায় উল্লেখিত বিশেষ পরিস্থিতিতে—বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারদর ও নিট সম্পদমূল্য (এনএভি)-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকলে—ট্রাস্টিকে বাধ্যতামূলকভাবে ইউনিটধারীদের বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করতে হবে।

বিশেষ সাধারণ সভার জন্য রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে এবং সভার নোটিশ কমপক্ষে ২১ দিন আগে প্রকাশ করতে হবে। রেকর্ড ডেটে যাদের নামে ইউনিট থাকবে, তারাই ভোটাধিকার পাবেন। রূপান্তর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মোট ইউনিটের অন্তত ৭৫ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

সমর্থন না মিললে লিকুইডেশন-

বিধিমালার ৬২(২) ধারার আওতাভুক্ত কোনো ফান্ডে রূপান্তরের পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন না মিললে ইউনিটধারীদের সিদ্ধান্ত অবসায়নের পক্ষে বলে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাস্টিকে বিধিমালা অনুযায়ী ফান্ডের লিকুইডেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে এ ধারার বাইরে থাকা কোনো ফান্ডে রূপান্তর প্রস্তাব ব্যর্থ হলে ইউনিটের লেনদেন পুনরায় চালু হবে এবং ফান্ডের ব্যবস্থাপনা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

কেন এই পরিবর্তন-

বিএসইসি জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে এনএভির তুলনায় বড় ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম বাজারদর পাচ্ছেন। এতে ইউনিটধারীদের অসন্তোষ বাড়ার পাশাপাশি ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে সেই অনিশ্চয়তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাস্টির নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন মূল্যায়ন-

রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হলে ফান্ডের সম্পদ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ট্রাস্টির হাতে ন্যস্ত হবে। তবে এ সময় ট্রাস্টি কোনো নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ফান্ডের সম্পদের স্বাধীন মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়—এমন অডিটরের মাধ্যমে অডিট রিপোর্ট ও ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হবে।

ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ-

রূপান্তর প্রক্রিয়ার নামে অতিরিক্ত ব্যয় আরোপ ঠেকাতে কঠোর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট রূপান্তর ব্যয় ফান্ডের আকারের এক শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অ্যাসেট ম্যানেজারের ফি সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ট্রাস্টির ফি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব-

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলোর দীর্ঘদিনের ডিসকাউন্ট সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। ওপেন-এন্ডেড ফান্ডে রূপান্তরের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা এনএভি ভিত্তিক দামে ইউনিট কেনা ও রিডেম্পশনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দুর্বল বা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ফান্ডগুলোর জন্য সুশৃঙ্খলভাবে বাজার থেকে বিদায়ের পথও তৈরি হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে