ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

'অন্যের কথায়' শেয়ার কেনেন অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারী: বিএসইসি চেয়ারম্যান

২০২৬ জুলাই ১৮ ১৭:০৮:১৪
'অন্যের কথায়' শেয়ার কেনেন অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারী: বিএসইসি চেয়ারম্যান

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারী মৌলিক বিশ্লেষণের পরিবর্তে অন্যের পরামর্শে বিনিয়োগ করেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে না ওঠায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্পও সীমিত রয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এতে আকিজ বশির গ্রুপ পরিবেশনায়, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) সঞ্চালনায় এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ সহযোগী হিসেবে রয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, "দুঃখের সঙ্গে আবারও বলছি, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে অধিকাংশই খুচরা বিনিয়োগকারী। তারা শেয়ার সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। অন্য কেউ দাম বাড়বে বলেছে বলেই তারা বিনিয়োগ করেন।"

তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও মৌলিক বিশ্লেষণভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

বন্ড বাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, "বাংলাদেশে কার্যকর বন্ড বাজারই নেই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল বোর্ডে সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) ছাড়া অন্য কোনো বন্ড লেনদেন হয় না। এটাই বর্তমান বাস্তবতা।"

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির টেকসই অর্থায়নের জন্য গ্রিন বন্ড, সোশ্যাল বন্ড ও অন্যান্য টেকসই বন্ডের দিকে যেতে হবে। তবে তার আগে প্রচলিত বন্ড বাজারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেখেছেন, দেশে বন্ড বাজার সক্রিয় না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বন্ড ইস্যুর দীর্ঘ সময় ও উচ্চ ব্যয়। তার ভাষায়, ব্যাংক থেকে কয়েক মাসের মধ্যে ঋণ পাওয়া গেলেও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে এবং খরচও বেশি হয়।

তিনি বলেন, বন্ড ইস্যুর সময় কমিয়ে এবং অর্থ সংগ্রহের ব্যয় ব্যাংক ঋণের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারলে দেশের বন্ড বাজারে গতি আসবে। এ লক্ষ্যেই কমিশন কাজ করছে।

করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুশাসন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়। তবে বাংলাদেশে স্বাধীন পরিচালকদের ভূমিকা এখনো অনেক ক্ষেত্রে আইনি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়া পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) বাস্তবায়নে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তার মতে, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দেশে ইএসজি বাস্তবায়ন এবং টেকসই অর্থায়নের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন