ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

স্পট ইন্সপেকশনের জন্য যৌথ প্যানেল গঠন, অগ্রাধিকার পাবে পাঁচটি ঝুঁকির বিষয়

২০২৬ আগস্ট ২৫ ০৮:০৮:১৪
স্পট ইন্সপেকশনের জন্য যৌথ প্যানেল গঠন, অগ্রাধিকার পাবে পাঁচটি ঝুঁকির বিষয়

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে আগাম নোটিস ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শন (স্পট ইন্সপেকশন) পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ উদ্দেশ্যে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্থায়ী যৌথ প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (এমআইএডি) প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রকৃত আর্থিক ও পরিচালন পরিস্থিতি যাচাই করা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও সিকিউরিটিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, স্পট ইন্সপেকশন নিয়মিত কার্যক্রম নয়; তবে প্রয়োজন হলে ঝুঁকির ভিত্তিতে তা পরিচালনা করা হবে। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আট সদস্যের প্যানেল, তিন সদস্যের পরিদর্শন দল

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আট সদস্যের একটি প্যানেলে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। এই প্যানেল থেকেই ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী তিন সদস্যের পরিদর্শন দল গঠন করা হবে। দল গঠন ও পরিদর্শনের আদেশ জারির দায়িত্ব থাকবে এমআইএডি বিভাগের কমিশনারের ওপর।

বর্তমানে এই বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন কমিশনার মো. নাফিজ আল তারিক।

কেন স্পট ইন্সপেকশন

বিএসইসি সূত্র জানায়, নিয়মিত পরিদর্শনের সময়সূচি অনেক ক্ষেত্রে আগেই জানতে পারে ব্রোকারেজ হাউজগুলো। এতে হিসাবের ঘাটতি সাময়িকভাবে পূরণ, নথিপত্র সাজানো বা অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রাহকের কনসলিডেটেড অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) অর্থের ঘাটতি, সিকিউরিটিজের হিসাবের অমিল বা মূলধনসংক্রান্ত সমস্যার প্রকৃত চিত্র গোপন করার ঝুঁকি থাকে।

নতুন ব্যবস্থায় কোনো ঝুঁকির তথ্য পাওয়া মাত্রই পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শন চালানো হবে।

স্পট ইন্সপেকশনে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে

পরিদর্শনের কার্যপরিধিতে (টিওআর) পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—

গ্রাহকের কনসলিডেটেড অ্যাকাউন্ট (সিসিএ)-এ অর্থের ঘাটতি রয়েছে কি না।

নথিপত্র ও বাস্তব হিসাব মিলিয়ে সিকিউরিটিজে কোনো অমিল বা ঘাটতি আছে কি না।

প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা (আরবিসিএ) সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়মিত জমা দেওয়া হচ্ছে কি না।

পরিবর্তন অযোগ্য (ইমিউটেবল) ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার এবং লেনদেনের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে কি না।

তদারকিতে নতুন কাঠামো

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ব্রোকারেজ হাউজ তদারকি শুধু নির্ধারিত পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি, আকস্মিক যাচাই এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও সিকিউরিটিজের সুরক্ষা জোরদার হবে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন