ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড বন্ধে বিএসইসির অনুমোদন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ০৮:৩৩:১৫
ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড বন্ধে বিএসইসির অনুমোদন

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড বন্ধ বা অবসায়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিআইসি জানিয়েছে, বিএসইসির ৯ আগস্টের একটি চিঠির ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর ফান্ডটি বন্ধের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ট্রাস্টি হিসেবে তারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ফান্ড অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ফান্ডটির সম্পদ নগদায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানটি।

ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড একটি ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির উদ্যোক্তা ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এতে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ছিল ৯৮ লাখ টাকা। আর ফান্ডটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্স লিমিটেড (ইউএফএস)।

ইউএফএসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের তদন্ত ও মামলা রয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এর পর বিভিন্ন ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বিএসইসি একাধিক পদক্ষেপ নেয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মামলার তথ্যানুযায়ী, ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ওপেন-এন্ডেড ফান্ডের মাধ্যমে ১৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ ওঠে। এসব ফান্ডের মধ্যে ছিল ইউএফএস-বাংলাদেশ ব্যাংক এশিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামীক ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তা, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। অভিযোগ ছিল, বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, ইউএফএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জাল নথি তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অনুমোদনহীন ব্যাংক হিসাব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করতেও এসব লেনদেনের কাঠামো ব্যবহার করা হয়।

তদন্তে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার অনুমোদনহীন বিনিয়োগ, ১৪৮ কোটি টাকার ভুয়া স্থায়ী আমানতের রসিদ (এফডিআর) তৈরি এবং শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফান্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। ব্যবস্থাপনা ও ট্রাস্টি ফি বাবদ সংগৃহীত অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

ইউএফএসের আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানিকেও শাস্তির আওতায় আনে বিএসইসি। বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

এখন বিএসইসির অনুমোদনের পর ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডের সম্পদ নগদায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে
Close
Facebook Facebook-এ ফলো করুন